নাবিকদের মৃত্যুতে শোকহীন ট্রাম্প! মোদীর সাথে বৈঠকে উত্তপ্ত আবহে কী বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

ওমান উপকূলে মার্কিন সামরিক হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ব রাজনীতিতে তীব্র উত্তাপ ছড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালীর কাছে বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কার ‘এমটি সেত্তেবেলো’ (MT Settebello)-কে লক্ষ্য করে মার্কিন বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার তীব্র ক্ষোভের মধ্যেই ফ্রান্সে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠকে বসলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য:
দীর্ঘ ১৬ মাস পর অনুষ্ঠিত এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে নাবিকদের মৃত্যু নিয়ে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নাবিকদের মৃত্যুর ঘটনায় কোনো শোক বা দুঃখপ্রকাশ করেননি। উল্টো জাহাজ পরিচালনাকে ‘কঠিন কাজ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “আমি বিষয়টি শুনেছি। এমনটা সবসময়ই ঘটে থাকে, তবে আমরা ভারত ও আমেরিকা একে অপরের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা তাদের সবাইকে ভালোবাসি এবং তারা খুব ভালো মানুষ।” ট্রাম্পের এই দায়সারা মন্তব্যে ভারতে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

মোদী-ট্রাম্প বৈঠক ও সুরক্ষার দাবি:
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদী নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তিতে নাবিকদের সুরক্ষার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তিনি জোর দাবি জানান। ট্রাম্প ভারতকে ‘বিশ্বস্ত অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করে আশ্বাস দিয়েছেন যে, আক্রান্ত হলে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের পাশে থাকবে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, জাহাজ দুটি ইরানের ওপর আরোপিত অবরোধ লঙ্ঘন করেছিল, যার জেরেই এই সামরিক অভিযান।

ভারতের কড়া অবস্থান:
এই ঘটনার পরপরই ভারত দুইবার মার্কিন চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স জেসন মিকসকে তলব করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে এক উত্তপ্ত আলোচনায় এই হত্যাকাণ্ডের জন্য তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালীতে এই ঘটনা ছাড়াও আরও দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ মার্কিন হামলার শিকার হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন বাহিনীর এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন ও বাণিজ্যিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। তিন নাবিকের অকাল মৃত্যু ও তার প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতিক্রিয়াহীন অবস্থান নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে চলছে জোর আলোচনা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *