নতুন কর ব্যবস্থায় আর ভয় নেই! বেতনভোগী কর্মচারীরা কীভাবে বাঁচাবেন মোটা অঙ্কের টাকা?

অনেকেই মনে করেন, নতুন কর ব্যবস্থায় (New Tax Regime) কর সাশ্রয়ের তেমন কোনো পথ খোলা নেই। তবে এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। সঠিক পরিকল্পনা থাকলে নতুন কর ব্যবস্থার মধ্যেও এমন কিছু ছাড় ও সুবিধা পাওয়া সম্ভব, যা আপনার করের বোঝা অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে। বেতনভোগী কর্মচারীরা কীভাবে নিজেদের আয়কর সাশ্রয় করবেন, তার ৭টি উপায় এখানে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. এনপিএস (NPS)-এ নিয়োগকর্তার অবদান:
নতুন কর ব্যবস্থার অধীনে ধারা 80CCD(2) অনুযায়ী, ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেমে নিয়োগকর্তার অবদান কর ছাড়ের যোগ্য। মূল বেতন ও মহার্ঘ ভাতার (DA) সর্বোচ্চ ১৪% পর্যন্ত অবদান করমুক্ত। এটি ৭৫,০০০ টাকার স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশনের অতিরিক্ত সুবিধা। উদাহরণস্বরূপ, আপনার বেতন ১২ লক্ষ টাকা হলে এবং নিয়োগকর্তা ১.৬৮ লক্ষ টাকা এনপিএস-এ জমা দিলে, সেই সম্পূর্ণ অর্থ করমুক্ত থাকবে।
২. ইপিএফ (EPF) সুবিধা:
নতুন নিয়মে ধারা 80C-এর সুবিধা না থাকলেও, ইপিএফ-এ নিয়োগকর্তার নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত অবদান করমুক্ত থাকে। তবে মনে রাখবেন, ইপিএফ, এনপিএস এবং সুপারঅ্যানুয়েশন ফান্ডে নিয়োগকর্তার মোট অবদান বার্ষিক ৭.৫ লক্ষ টাকা ছাড়ালে, অতিরিক্ত অর্থের ওপর কর দিতে হবে।
৩. ৭৫,০০০ টাকার স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন:
বেতনভোগী কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা কোনো প্রকার নথিপত্র বা বিল জমা ছাড়াই সরাসরি ৭৫,০০০ টাকার স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন পাওয়ার অধিকারী। এটি করযোগ্য আয় কমাতে সরাসরি সাহায্য করে।
৪. ভাড়ার বাড়ির গৃহ ঋণের সুদ:
আপনার যদি কোনো গৃহঋণ থাকে এবং সেই বাড়িটি ভাড়া দেওয়া থাকে, তবে নতুন কর ব্যবস্থাতেও আপনি গৃহঋণের সুদের ওপর কর ছাড় দাবি করতে পারেন। তবে এই সুবিধা শুধুমাত্র বাড়ি ভাড়া থেকে প্রাপ্ত আয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
৫. অফিসের প্রয়োজনীয় সুবিধার ওপর কর ছাড়:
অফিসের কাজের জন্য মোবাইল ও ইন্টারনেট বিলের প্রতিদান, কোম্পানি-প্রদত্ত মোবাইল ফোন, হেলথ ও ওয়েলনেস প্রোগ্রাম এবং নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে খাবারের ভাউচার করমুক্ত থাকে।
৬. দাপ্তরিক ভাতার সুবিধা:
দাপ্তরিক ভ্রমণ, বদলি, কর্তব্যরত অবস্থায় ব্যয়িত খরচ এবং প্রতিবন্ধী কর্মীদের যাতায়াত ভাতা করমুক্ত। পাশাপাশি, কাজের প্রয়োজনে ইউনিফর্ম ক্রয় বা রক্ষণাবেক্ষণের খরচও করমুক্ত হিসেবে গণ্য হয়।
৭. উপহার ও পারিবারিক পেনশনে ছাড়:
নিয়োগকর্তার কাছ থেকে প্রাপ্ত বছরে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত উপহার সম্পূর্ণ করমুক্ত। এছাড়া, পারিবারিক পেনশন প্রাপকদের জন্য পেনশনের এক-তৃতীয়াংশ অথবা বছরে ২৫,০০০ টাকা—এর মধ্যে যেটি কম, সেই পরিমাণ অর্থ করমুক্ত থাকে।
উপসংহার:
যদিও নতুন কর ব্যবস্থা অনেক পুরনো ডিডাকশন বাতিল করেছে, তবুও এই ছোট ছোট বিষয়গুলো মাথায় রেখে কর পরিকল্পনা করলে আপনার বার্ষিক আয়ের ওপর করের চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব। সঠিক তথ্যের প্রয়োগই আপনাকে দীর্ঘমেয়াদে বড় আর্থিক সাশ্রয় দিতে পারে।
পরামর্শ: কর সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে প্রয়োজনে একজন পেশাদার চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CA) বা ট্যাক্স কনসালট্যান্টের সাথে পরামর্শ করে নিন।