মায়ের চোখের সামনেই নিভে গেল জীবনপ্রদীপ! জিমে শরীরচর্চার পরেই মর্মান্তিক মৃত্যু জাতীয় স্তরের বডিবিল্ডারের

ক্রীড়াজগতে এক গভীর শোকের ছায়া। ২৬ বছর বয়সী জাতীয় খ্যাতিসম্পন্ন বডিবিল্ডার সুশীল কুমারের মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্তম্ভিত গোটা দেশ। কর্নাটকের দাভাঙ্গেরের কেটিজে নগরের বাসিন্দা এই তরুণ অ্যাথলিটের অকালপ্রয়াণ মেনে নিতে পারছেন না তাঁর অগণিত ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা।
কীভাবে ঘটল এই হৃদয়বিদারক ঘটনা?
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতোই বুধবার সকালে জিমে কঠোর শরীরচর্চা করেছিলেন সুশীল। দিনের শেষে মাকে কর্মস্থলে পৌঁছে দিতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় আচমকা মাথা ঘুরে পড়ে যান তিনি। দ্রুত তাঁকে দাভাঙ্গেরে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, তাঁর রক্তচাপ অত্যন্ত কমে গেছে। চিকিৎসকদের সব চেষ্টার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এই সম্ভাবনাময় ক্রীড়াবিদ।
মায়ের চোখের সামনেই শেষ নিঃশ্বাস:
সুশীল কুমার তাঁর মায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ইনস্টাগ্রামে মায়ের সঙ্গে তাঁর অগণিত ভিডিও তাঁদের গভীর সম্পর্কের সাক্ষ্য দেয়। যে মা হাসপাতালে অন্যের জীবন বাঁচানোর কাজ করেন, তিনি নিজের চোখের সামনেই তরুণ সন্তানের অকালমৃত্যু দেখে ভেঙে পড়েছেন। পুত্রের এই মর্মান্তিক পরিণতিতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের অন্ধকার।
শৃঙ্খলাপরায়ণ জীবনের সমাপ্তি:
সুশীল কুমার পরিচিত ছিলেন তাঁর অত্যন্ত শৃঙ্খলাপরায়ণ জীবনযাপনের জন্য। বন্ধু ও আত্মীয়দের মতে, কোনো রকম নেশা বা আসক্তি ছিল না তাঁর। নিয়মিত শরীরচর্চা ও তরুণদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দাভাঙ্গেরের নাম উজ্জ্বল করেছিলেন তিনি। রাজ্য ও জাতীয় পর্যায়ের অসংখ্য পদক জয়ী সুশীলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ক্রীড়াবিদরা।
তরুণদের হৃদরোগের ঝুঁকি কি বাড়ছে?
সাম্প্রতিক সময়ে সুস্থ-সবল ও ক্রীড়াবিদ তরুণদের হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা চিকিৎসা মহলে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই জাগালুরে এক ৯ বছরের স্কুলছাত্রের মৃত্যুর পর, সুশীলের মতো একজন ফিট অ্যাথলিটের এভাবে চলে যাওয়া আবারও প্রশ্ন তুলে দিল তরুণ প্রজন্মের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিয়ে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ মনে হলেও হৃদযন্ত্রের জটিলতা অনেক সময় নীরবে বাসা বাঁধে, যা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অভাবেই বড় বিপদ ডেকে আনে।