ভারতের অর্থনৈতিক জয়জয়কার! জি৭ বৈঠকে বড় সাফল্য, ব্রিটেন ও ইউরোপের সাথে ঐতিহাসিক চুক্তির পথে দেশ

ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ-তে আয়োজিত জি৭ (G7) শীর্ষ সম্মেলন ভারতীয় অর্থনীতির জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘বহু-সংযোজন’ নীতি বা বিশ্বের সকল প্রধান শক্তির সঙ্গে শক্তিশালী সমন্বয়ের কৌশল যে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করছে, তা এদিন পরিষ্কার হয়ে গেল। এই সম্মেলন থেকে বেরিয়ে এল ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং কানাডার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ইতিবাচক বার্তা।

ব্রিটেনের সাথে নতুন বাণিজ্যিক অধ্যায়:
এই সম্মেলনের সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে ব্রিটেনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর আলোচনার প্রেক্ষিতে ঐতিহাসিক এক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী ২০২৬ সালের ১৫ জুলাই থেকে এই চুক্তিটি সম্পূর্ণরূপে কার্যকর হবে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য বাধাগুলো দূর হবে, যা ভারতীয় রফতানিকারক এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন আয়ের পথ খুলে দেবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এর ফলে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে ‘মাদার অফ অল ডিল’:
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ভারতের আলোচনাকে বিশ্ব রাজনীতিতে ‘সকল বাণিজ্য চুক্তির জননী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনার পর এটি স্পষ্ট যে, ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। চলতি বছরের শেষ নাগাদই এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে চলেছে বলে আশা করা হচ্ছে, যা ভারতের রফতানি বাণিজ্যের জন্য গেম-চেঞ্জার হতে পারে।

কানাডার সাথে সিইপিএ (CEPA) চুক্তির লক্ষ্য:
কানাডার সঙ্গেও সম্পর্কের বরফ গলেছে এই সম্মেলনের হাত ধরে। দুই দেশের নেতাদের যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি’ (CEPA) সংক্রান্ত আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। ২০২৬ সালের মধ্যেই এই চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ভারত ও কানাডা।

সাধারণ মানুষের জন্য কী বার্তা?
এই চুক্তিগুলো কেবলই কূটনৈতিক সাফল্য নয়, এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে:

বাজারে তহবিলের প্রবাহ: বিদেশি বিনিয়োগের ফলে দেশীয় বাজারে লিকুইডিটি বা অর্থের সরবরাহ বাড়বে।

কর্মসংস্থান: রফতানিমুখী শিল্পগুলো চাঙ্গা হওয়ায় দেশে কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে।

বাজারের সুবিধা: আন্তর্জাতিক মানের পণ্য ভারতের বাজারে সহজে এবং সুলভে পাওয়া সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই কূটনৈতিক প্রয়াস ভারতের অর্থনীতিকে বিশ্বমঞ্চে এক ‘পাওয়ার হাউস’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পথে বড় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *