সিন্ধু সভ্যতার ‘নৃত্যরতা তরুণী’র ছবি বদলে বিতর্ক! এনসিইআরটি-র সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা শিক্ষামহলে

৪,৫০০ বছরের প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতার অন্যতম নিদর্শন ‘ড্যান্সিং গার্ল’ বা নৃত্যরতা তরুণীর ভাস্কর্য। বিশ্বজুড়ে সমাদৃত এই ব্রোঞ্জ মূর্তির ছবি এনসিইআরটি (NCERT)-এর একটি নতুন পাঠ্যবইয়ে বদলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নবম শ্রেণীর চারুকলার বইতে মূর্তির শরীরের উপরিভাগ কৃত্রিমভাবে ঢাকা বা আবছা করে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে বর্তমানে শিক্ষামহলে তীব্র বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
কেন এই পরিবর্তন?
বোর্ডের একাংশের দাবি, স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের জন্য আসল মূর্তিটির ছবি নাকি ‘উপযুক্ত’ নয়। আর এই অদ্ভুত যুক্তি ঘিরেই শুরু হয়েছে তুমুল সমালোচনা। আধুনিক শিক্ষায় প্রাচীন ভিক্টোরিয়ান মানসিকতার প্রয়োগকে কোনোভাবেই সমর্থন করছেন না বিশেষজ্ঞরা।
তীব্র ক্ষোভ শিক্ষাবিদদের
খোদ এনসিইআরটি-র পাঠ্যপুস্তক কমিটির প্রধান মিশেল দানিনো এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন, ইতিহাসের একটি অনন্য নিদর্শনকে এভাবে বিকৃত করা মানে পড়ুয়াদের সামনে ‘নকল ইতিহাস’ তুলে ধরা। তাঁর মতে, নগ্নতা নিয়ে এই ধরনের ছুঁতমার্গ আধুনিক শিক্ষায় থাকা উচিত নয়। ইতিহাসকে তার আপন মহিমায় এবং সঠিক রূপেই পাঠ্যবইয়ে রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন ইতিহাসবিদরা।
এনসিইআরটি-র স্ববিরোধিতা ও ধোঁয়াশা
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, একই বোর্ডের দুটি আলাদা বইতে দুই ভিন্ন ছবি। যেখানে নবম শ্রেণীর বইতে মূর্তিটিকে আবছা করা হয়েছে, সেখানে ষষ্ঠ শ্রেণীর সমাজবিজ্ঞান বইতে কিন্তু ভাস্কর্যটির আসল ছবিই রাখা হয়েছে। এনসিইআরটি-র এই স্ববিরোধিতা নিয়ে এখন প্রশ্ন তুলছেন অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা।
বিতর্কের তীব্রতা বাড়ায় নড়েচড়ে বসেছে এনসিইআরটি। বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখার জন্য তাদের টেক্সটবুক টিমের কাছে পাঠিয়েছে।
তর্কটা যেখানে:
আমাদের প্রাচীন ইতিহাসকে কি আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি বা সংস্কার দিয়ে ঢেকে ফেলা উচিত, নাকি যা যেমন, তাকে ঠিক তেমনভাবেই প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া উচিত—এই বড় প্রশ্নটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। পাঠ্যবইয়ের এই পরিবর্তন কি কেবলই ‘সংস্কৃতি রক্ষার’ প্রয়াস, নাকি ইতিহাসের সত্যকে আড়াল করার প্রচেষ্টা? উত্তর খুঁজছে শিক্ষামহল।