২০ সাংসদের দলবদল! নতুন দলে যোগ দিতেই ‘ওয়াই’ ক্যাটাগরি নিরাপত্তা সুদীপ-দেবের

রাজ্যের রাজনীতিতে বড়সড় ভাঙন। তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ দলত্যাগ করে যোগ দিলেন ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)-এ। আর এই দলবদলের পরপরই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ। নবান্ন সূত্রে খবর, দলবদলের ঠিক পরেই বিশিষ্ট সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দেবকে ‘ওয়াই’ (Y) ক্যাটাগরি নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা ও দলবদল:
দলবদলের আগে সরকার পরিবর্তনের পর সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নতুন রাজনৈতিক শিবিরে যোগদানের পরই ফের তাঁর ও অভিনেতা-সাংসদ দেবের নিরাপত্তা কবচ ফিরিয়ে দিল রাজ্য সরকার। আইনত কোনো জটিলতা এড়াতে ত্রিপুরাভিত্তিক দল এনসিপিআই-এর সঙ্গে হাত মিলিয়ে এনডিএ (NDA) শিবিরে শামিল হয়েছেন এই ২০ জন সাংসদ। বর্ষীয়ান সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও এই দলবদলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কুণালের নিশানায় সুদীপ:
এদিকে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলবদল নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় নাম না করেই সুদীপকে বিঁধে কুণাল লিখেছেন, এক সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পার্টির থেকে গাড়ি কেনার জন্য টাকা চেয়েছিলেন সুদীপ। কুণাল ঘোষের কথায়, “নির্বাচনী হলফনামায় কোটিপতি হয়েও পার্টির কাছে গাড়ির টাকা চাওয়াটা নির্লজ্জতার পরিচয়।” কুণালের এই আক্রমণ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি:
একঝাঁক সাংসদের দলবদল ও এনডিএ শিবিরে যোগদানের ফলে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তিতে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো বর্ষীয়ান নেতার প্রস্থান তৃণমূলের অন্দরে বড় ধরনের অস্বস্তির সৃষ্টি করেছে। যদিও এনসিপিআই-এর ব্যানারে এই নতুন ব্লক কতদূর এগোতে পারবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।