পেট্রলের দিন শেষ? ১০০ শতাংশ ইথানলে চলবে গাড়ি, বড় ঘোষণা নিতিন গডকরির

দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পথে কেন্দ্রীয় সরকার। পেট্রলের ওপর নির্ভরতা কমাতে এবার ১০০ শতাংশ ইথানল ব্যবহারের ওপর আইনি স্বীকৃতি দিল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রী নিতিন গডকরি জানিয়েছেন, এই সংক্রান্ত ফাইলে সই করার পরেই এখন থেকে ইথানলচালিত গাড়ির পথ প্রশস্ত হলো।
কী বললেন নিতিন গডকরি?
নাগপুরে এক অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকরি জানান, “আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, ১০০ শতাংশ ইথানল ব্যবহারের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।” তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যেই টয়োটা, সুজুকি, এমজি এবং হুন্ডাই-এর মতো জনপ্রিয় গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলি তাদের ১০০ শতাংশ ইথানলে চলা গাড়ি বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই এই গাড়িগুলি ভারতীয় সড়কে দেখা যাবে। এর আগে হিরো মোটোকর্পের একটি ওয়াগনআর গাড়িও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে লঞ্চ করা হয়েছিল।
পেট্রল বনাম ফ্লেক্স ফুয়েল: পার্থক্য কী?
সাধারণ গাড়ি এবং ফ্লেক্স ফুয়েল চালিত গাড়ির বাইরের লুক বা ড্রাইভিং অভিজ্ঞতায় তেমন পার্থক্য না থাকলেও, ইঞ্জিনের প্রযুক্তিতে রয়েছে বড় তফাত।
সাধারণ গাড়ি: মূলত পেট্রলেই চলে। বর্তমানে পেট্রল পাম্পে যে ২০ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি পাওয়া যায়, তা সাধারণ গাড়িতে ব্যবহার করা যায়।
ফ্লেক্স ফুয়েল গাড়ি: এই ইঞ্জিনগুলি পেট্রল, ইথানল বা উভয়ের মিশ্রণে সমান দক্ষতায় চলতে পারে। এই গাড়িতে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল ব্যবহার করা সম্ভব।
কিছু আশঙ্কার দিকও রয়েছে:
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ফ্লেক্স ফুয়েলের ব্যবহার বাড়লে পেট্রল পাম্পগুলোতে সাধারণ পেট্রলের জোগান কমে যেতে পারে। ফলে চিরাচরিত পুরনো গাড়িগুলোর মালিকদের ক্ষেত্রে জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে। এছাড়াও, সাধারণ ইঞ্জিনের গাড়িতে ভুলবশত ফ্লেক্স ফুয়েল ব্যবহার করলে ইঞ্জিনে বড়সড় যান্ত্রিক ত্রুটি বা ক্ষতি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সাধারণ ক্রেতাদের এই বিষয়ে বাড়তি সচেতন হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
ভারতের জ্বালানি আমদানির খরচ কমাতে এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত কার্যকর হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।