৭ কোটির আর্থিক অনিয়ম! গ্রেফতারের পর আরামবাগে ডিম-বৃষ্টির মুখে গ্রীন সিটি দুর্নীতি কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত

দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর গ্রীন সিটি দুর্নীতি কাণ্ডে বড়সড় সাফল্য পেল তদন্তকারী দল। ৭ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে মূল অভিযুক্ত স্বপন নন্দীকে কেরালা থেকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার তাকে আরামবাগে নিয়ে আসার পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযুক্তকে দেখার সঙ্গে সঙ্গেই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে।
কী ঘটেছিল আরামবাগে?
স্বপন নন্দীকে আরামবাগে নিয়ে আসার খবর জানাজানি হতেই স্থানীয় মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। অভিযুক্তের গাড়ি লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান ওঠে এবং তার দিকে ডিম ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও সরকারি প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে তীব্র ক্ষোভ জমেছিল, তা এদিন প্রকাশ্যে চলে আসে।
কী এই গ্রীন সিটি দুর্নীতি?
আরামবাগের গ্রীন সিটি প্রকল্পের নামে প্রায় ৭ কোটি টাকার আর্থিক গরমিলের অভিযোগ উঠেছিল। এই প্রকল্পের টাকা কোথায় গেল, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল তদন্ত। স্বপন নন্দীর নাম জড়িয়েছিল এই দুর্নীতির মূল চক্রী হিসেবে। অভিযোগ, সরকারি টাকা নয়ছয় করে তিনি গা ঢাকা দিয়েছিলেন। অবশেষে কেরালায় লুকিয়ে থাকা অবস্থায় তাকে পাকড়াও করে তদন্তকারী দল।
তদন্তে কি নতুন মোড় আসবে?
স্বপন নন্দীর গ্রেফতারির পর এখন তদন্তকারী আধিকারিকদের মূল লক্ষ্য হলো টাকা উদ্ধার করা এবং এই দুর্নীতির পেছনে অন্য কোনো রাঘববোয়ালদের যোগ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা। সূত্রের খবর, স্বপনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে গ্রীন সিটি প্রকল্পের আর্থিক লেনদেনের বহু গোপন তথ্য সামনে আসতে পারে। এলাকাবাসীর দাবি, শুধুমাত্র একজন নন, এই দুর্নীতির নেপথ্যে থাকা প্রতিটি মাথাকে যেন আইনের আওতায় আনা হয়।
অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময়ও ব্যাপক উত্তেজনা ছিল। এই ঘটনায় আরামবাগের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এখন দেখার, জেরা থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেয় পুলিশ।