প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নির্দেশের পরেই তৎপরতা! রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর তদন্তে বড় মোড়

অভিনেতা রাহুল অরুণাদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় এবার বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। আড়াই মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও এই মৃত্যুর কিনারা না হওয়ায় এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের (PMO) নির্দেশের পর, তদন্তভার সিআইডি (CID)-র হাতে তুলে দেওয়ার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দিঘার প্রশাসনিক বৈঠক থেকে এই নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

কেন এই সিআইডি তদন্ত?
ওড়িশার বালেশ্বরে একটি ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন জলে ডুবে মৃত্যু হয় অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এই ঘটনাকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে মেনে নিতে নারাজ অভিনেতার পরিবার এবং টলিপাড়ার একাংশ। শুটিং সেটে নিরাপত্তার অভাব এবং অব্যবস্থাকেই এই মর্মান্তিক পরিণতির জন্য দায়ী করছেন অনেকে। বিষয়টি নিয়ে বারবার প্রশ্ন ওঠায় এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ায় তদন্তে নতুন গতি এল।

কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
দিঘার প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ওড়িশা সরকার এই ঘটনায় সিট (SIT) গঠন করেছে। আমি পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছি, ডিজিপির মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে প্রস্তাব পাঠাতে, যাতে মামলাটি সিআইডি হাতে নেয়।” অভিনেতার পরিবার এই বিষয়ে মামলা দায়ের করায় এবং মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হওয়ায় রাজ্য সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দিঘার পর্যটন ও নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ:
রাহুলের মৃত্যুর ঘটনার রেশ ধরেই দিঘার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন:

দিঘার হাসপাতালগুলোতে ন্যূনতম পরিকাঠামো নেই। নেই আইসিইউ বেড বা ব্লাড ব্যাংক।

পর্যটকদের সুরক্ষার জন্য নুলিয়ার সংখ্যা অত্যন্ত কম। মাত্র ৬৩ জন নুলিয়া দিয়ে এত বিশাল সমুদ্রতট সামলানো কঠিন।

খুব দ্রুত নুলিয়াদের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধিরও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

রাহুলের মৃত্যুর পর থেকে টলিপাড়া বারবার বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছে। অভিনেতা মৃত্যুর সঠিক বিচার চেয়ে এবং শুটিং সেটে সুরক্ষার দাবিতে পথে নেমেছেন সহকর্মীরা। এখন সিআইডি তদন্তের নির্দেশে রহস্যের জট দ্রুত খুলবে বলেই আশা করছেন সকলে।