সরকারি মুরগি চুরির অভিযোগ! তৃণমূল নেতাকে ডিম ছুড়ে গণধোলাই, কাটোয়ায় শোরগোল

সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ উঠল এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার হলো সরকারি মুরগি, সেলাই মেশিন এবং বস্তা ভর্তি নথি। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত নেতাকে লক্ষ্য করে কাঁচা ডিম ছুড়ে তীব্র বিক্ষোভ দেখান। রবিবার পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া ১ নম্বর ব্লকের গোঁহাই গ্রাম পঞ্চায়েতের বাদরা গ্রামে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো রণক্ষেত্র পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে:
অভিযুক্ত তৃণমূল নেতার নাম বিশ্বজিৎ দাস। তাঁর স্ত্রী রেখা দাস ‘আনন্দধারা’ প্রকল্পের অধীনে বেশ কয়েকটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর নেত্রী হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি অনুদান হিসেবে আসা মুরগি এবং মহিলাদের কর্মসংস্থানের জন্য বরাদ্দ সেলাই মেশিনগুলি প্রকল্পের সদস্যদের না দিয়ে নিজের বাড়ির ছাদে লুকিয়ে রেখেছিলেন ওই নেতার স্ত্রী। উদ্দেশ্য ছিল, এই সামগ্রীগুলো গোপনে বিক্রি করে দেওয়া।
উদ্ধার অভিযানে যা যা মিলল:
রবিবার স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি জানতে পেরে বিশ্বজিৎ দাসের বাড়িতে চড়াও হন। তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয়:
২৫টিরও বেশি সরকারি মুরগি।
বেশ কয়েকটি সেলাই মেশিন (অভিযোগ, মেশিন থেকে যন্ত্রাংশ খুলে বিক্রি করা হতো)।
সরকারি নথিপত্র ও ফাইলের কয়েকটি বস্তা।
একটি ল্যাপটপ।
টাকা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ:
শুধু সরকারি সম্পদ চুরিই নয়, বিশ্বজিৎ দাসের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা হাতানোর গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। এক স্থানীয় মহিলা অভিযোগ করেন, “চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে আমার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কিছুই হয়নি। উল্টে টাকা ফেরত চাইলে তিনি টালবাহানা করেছেন। আমার মতো আরও অনেকের কাছ থেকেই এভাবে টাকা তোলা হয়েছে।”
পুলিশি তৎপরতা:
তৃণমূল নেতার বাড়ির সামনে উত্তেজনা চরমে উঠলে ক্ষিপ্ত জনতা তাঁকে ঘিরে ধরে ডিম ছুড়ে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে খবর দেওয়া হয় কাটোয়া থানায়। দ্রুত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত নেতাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার সময় অভিযুক্ত নেতার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না বলে জানা গেছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের অস্বস্তি বেড়েছে। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।