স্কুলে ক্লাস নিতেও লাগত টাকা! হাইস্কুলের দুর্নীতির পর্দাফাঁস, ক্ষোভে ফুঁসছেন অভিভাবকরা

দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চলা এক ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগে তটস্থ পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা ১ নম্বর ব্লকের জাড়া হাইস্কুল। স্কুলের শিক্ষক ও অভিভাবকদের সাম্প্রতিক এক বৈঠকে দুর্নীতির যে চিত্র উঠে এসেছে, তা দেখে স্তম্ভিত খোদ পরিচালন সমিতির সদস্যরাও। পড়াশোনার মান তলানিতে ঠেকানো থেকে শুরু করে মিড ডে মিলের চাল বিক্রি—অভিযোগের তালিকায় রয়েছে সব কিছুই।
কী কী অভিযোগ উঠেছে?
অভিভাবক ও স্কুল পরিচালন কমিটির সদস্যদের অভিযোগের ফিরিস্তি দীর্ঘ:
ক্লাস নিতেও টাকা: বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাংশ নাকি ক্লাস নেওয়ার বিনিময়েও টাকা নিতেন!
নম্বর জালিয়াতি: যে ছাত্র পড়াশোনা করেনি, তাকেও নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
মিড ডে মিল দুর্নীতি: মিড ডে মিলের চাল বিক্রি করে দেওয়ার পাশাপাশি, খাতা-কলমে রবিবারও স্কুলে খাবার খাওয়ানোর মতো আজব ভুতুড়ে ঘটনাও সামনে এসেছে।
পরিকাঠামো বেহাল: স্কুল উন্নয়নের ফান্ডের টাকা নয়ছয় হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামো এখন জরাজীর্ণ।
মুখোমুখি শিক্ষক-অভিভাবক:
অভিযোগের এই পাহাড়ে এদিন স্কুল পরিচালন কমিটির বর্তমান সেক্রেটারি দেবাশিস মুখোপাধ্যায় সরব হয়ে দুর্নীতির বিষয়গুলো প্রকাশ্যে আনেন। অভিযোগের তোপে পড়ে অভিভাবকদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েন শিক্ষকরা। স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিরণ্ময় মুখোপাধ্যায় এই অভিযোগগুলোর কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি বলে জানা গিয়েছে। তৎকালীন পরিচালন কমিটির সভাপতি থেকে শিক্ষকদের একাংশ—প্রত্যেকেই যেন এদিন একে অপরের দিকে দায় ঠেলতে ব্যস্ত ছিলেন।
তদন্তের দাবি:
দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে স্কুলের টাকা নিয়ে এই নয়ছয় কীভাবে চলল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় মানুষ। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, শুধুমাত্র অভিযোগ ওঠাই যথেষ্ট নয়, অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। স্কুলের হারানো সম্মান ফিরিয়ে আনতে এবং পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে উচ্চতর তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।
এলাকার বাসিন্দাদের মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যখন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়, তখন তার দায় কাউকেই ছাড় দেওয়া উচিত নয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বড় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়
বিঃদ্রঃ খবরের ছবিটি AI দ্বারা নির্মিত