“সাহস ছাড়া কোনো গুণই চর্চা করা যায় না”, বিতর্কিত ঋতব্রতর স্ত্রীর পোস্টে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

তৃণমূলের অন্দরে যখন দলের একাংশের বিদ্রোহ এবং ‘তৃণমূল ব্লক’ গঠনের জল্পনা নিয়ে রাজনীতি উত্তাল, ঠিক তখনই দলের প্রাক্তন সাংসদ ও বর্তমান বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী দুর্বা সেন বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট রাজ্য রাজনীতিতে নতুন রহস্যের জন্ম দিয়েছে। সেই পোস্টটি শেয়ার করে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষও।

কী লিখেছেন দুর্বা?
মায়া অ্যাঞ্জেলুর একটি বিখ্যাত উক্তি উদ্ধৃত করে দুর্বা সেন বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, “সাহস সব গুণের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সাহস ছাড়া অন্য কোনো গুণকে ধারাবাহিকভাবে চর্চা করা যায় না।” এর পাশাপাশি একটি নীতিগল্পের মাধ্যমে তিনি ‘সাহস’ ও ‘নৈতিকতা’র সম্পর্ক নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। যদিও পোস্টের শেষে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এটি তাঁর একান্তই ব্যক্তিগত পোস্ট এবং রাজনীতির সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

তৃণমূলের অন্দরে সমীকরণ:
একসময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে সিপিএম থেকে তৃণমূলে আসা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এখন দলেরই একাংশের চক্ষুশূল। বিশেষ করে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে ‘দলবিরোধী’ ও ‘বিশ্বাসঘাতক’-এর তকমা লেগেছে।

অভিযোগ: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো চিঠিতে একাধিক তৃণমূল বিধায়কের সই জালিয়াতির অভিযোগে ঋতব্রতর নাম জড়িয়েছে।

সমান্তরাল দল: তৃণমূলের একনায়কতন্ত্র ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে তিনি ইতিমধ্যেই ‘তৃণমূল ব্লক’ নামে একটি নতুন সমান্তরাল বলয় তৈরির চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ।

কুণাল ঘোষের প্রতিক্রিয়া:
সবচেয়ে কৌতূহলের বিষয় হলো, ঋতব্রতর স্ত্রীর এই রহস্যময় পোস্টটি শেয়ার করেছেন স্বয়ং কুণাল ঘোষ। তিনি লিখেছেন, “পড়লাম, ভালো লাগল।” এই স্বল্প দৈর্ঘ্যের প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক মহলে একাধিক প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। কুণাল কি তবে ঋতব্রতর স্ত্রীর মাধ্যমে অন্য কোনো বার্তা দিলেন? নাকি পুরো ঘটনাটিই কোনো বিশেষ ইশারা?

এই মুহূর্তে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সম্পর্কের যে অবনতি হয়েছে, তাতে এই পোস্টটি যে অত্যন্ত ইঙ্গিতবাহী, তা মানছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই।