‘উন্নয়নের এই যাত্রা থামার নয়’, মোদীর ১২ বছর পূর্তিতে আত্মবিশ্বাসী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদীর দীর্ঘ ১২ বছরের শাসনকালকে ‘বিশ্বাসের যাত্রা’ হিসেবে অভিহিত করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে এক সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নমূলক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে অবিচল থাকার বার্তা দিলেন।

‘প্রধান সেবক’-এর এক যুগ:
সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নরেন্দ্র মোদি নিজেকে প্রধানমন্ত্রী নয়, বরং ‘প্রধান সেবক’ হিসেবে পরিচয় দিতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এই বয়সেও দেশের জন্য তাঁর যে অদম্য উৎসাহ, তা আমাদের সকলের জন্যই শিক্ষণীয়।” ২০১৪ সালের ভারত ও ২০২৬ সালের ভারতের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্যের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, মোদীর নেতৃত্বে দেশ আজ এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

১২ বছরের উন্নয়নের খতিয়ান:
মোদীর শাসনামলের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দেশের ভোল কীভাবে পালটে গিয়েছে:

পরিকাঠামো: দেশে ৪ লক্ষ কিলোমিটার পাকা রাস্তা নির্মাণ এবং ১৬৪টি ‘বন্দে ভারত’ এক্সপ্রেস চালু হয়েছে।

উৎপাদন ও অর্থনীতি: ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল উৎপাদনকারী দেশ। দুগ্ধ উৎপাদনে বৃদ্ধি পেয়েছে ৬১.৮ শতাংশ।

জনকল্যাণ: ৮২ কোটি মানুষকে বিনামূল্যে র‍্যাশন প্রদান, আবাস যোজনা এবং নারী ক্ষমতায়নের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রার মান আমূল বদলেছে।

পশ্চিমবঙ্গে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সুফল:
রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের এক মাস পূর্তিতে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত আশাবাদী। তিনি বলেন, “রাজ্যে বিজেপি সরকারের এক মাস পূর্ণ হয়েছে। এই অল্প সময়েই মানুষ ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সুফল পেতে শুরু করেছেন। ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত চলতি অর্থবর্ষ শেষ হওয়ার আগেই মানুষ নিজেই এই উন্নয়নের প্রচারক হয়ে উঠবেন। আমাদের বাড়তি কোনো প্রচারের প্রয়োজন হবে না।”

পরিশেষে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, মোদীর হাত ধরে শুরু হওয়া উন্নয়নের এই রথ কোনোভাবেই থামবে না। ভারতের প্রতিটি প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। এই উন্নয়নের ধারা ২০৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে অবিরাম গতিতে এগিয়ে চলবে।