বিশেষ: মোবাইল স্ক্রিনের নেশায় শৈশব, জেনেনিন এ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ কী?

ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে তাল মিলিয়ে সময় দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে, কিন্তু সেই সময়ের একটা বড় অংশ আজ যেন হারিয়ে যাচ্ছে চার ইঞ্চি বাই ছয় ইঞ্চির সেই কৃত্রিম আলো ছড়ানো কাচের স্ক্রিনে। স্মার্টফোনের নীল আলোয় বুঁদ হয়ে থাকা বর্তমান সমাজ এক যান্ত্রিক নীরবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। কিশোর-কিশোরী থেকে বয়স্ক—সবাই যেন আজ এক অদৃশ্য ডিজিটাল শিকলে বন্দি।

শৈশব আজ স্ক্রিনের খাঁচায়: একসময় শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশের জন্য অপরিহার্য ছিল মাঠের দৌড়ঝাঁপ ও ধুলোবালি মেখে বেড়ে ওঠা। অথচ আজকের প্রজন্মের বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে মোবাইল ফোন। ফেসবুক রিলস, গেমিংয়ের নেশা আর ছবি আপলোডের অস্থিরতায় শিশুরা আজ চার দেয়ালের মাঝে নিস্প্রাণ স্ক্রিনের ভেতর আটকে পড়েছে। পারস্পরিক সংলাপ আর সামাজিক মেলামেশার পাঠ তারা যেন ভুলতেই বসেছে।

আড়াল হচ্ছে পারিবারিক বন্ধন: সমস্যার জাল বিস্তার করেছে পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের মধ্যেও। অবসর যাপনের সঙ্গী বই বা গল্পের বদলে এখন জায়গা নিয়েছে স্মার্টফোনের স্ক্রল। এর ফলে একই ছাদের নিচে পাশাপাশি বসেও মানুষ আজ একে অপরের থেকে মাইলের পর মাইল দূরে অবস্থান করছে। পারিবারিক বন্ধনগুলো আলগা হয়ে তৈরি হচ্ছে এক অদৃশ্য দূরত্ব, যা আগামী প্রজন্মের সামাজিক মানসিকতার ওপর বড় প্রভাব ফেলছে।

প্রযুক্তি বনাম সচেতনতা: স্মার্টফোনের নানাবিধ সুবিধার চেয়েও এর ভুল ব্যবহারের বিপদ আজ স্পষ্ট। সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে অনেকেই ডিজিটাল ফাঁদে পড়ে বিপদগ্রস্ত হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, প্রযুক্তিকে বর্জন করা আধুনিক যুগে অসম্ভব, কিন্তু তার নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ও শৈশবকে পুনরায় খেলার মাঠে ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।

সম্পাদকের বার্তা: প্রযুক্তির এই দৌড়ে আমরা কতটা ‘স্মার্ট’ হচ্ছি, তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন থেকেই যায়। সুস্থ সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে আমাদের কি তবে আবারও মানুষের কাছাকাছি ফেরার সময় এসেছে? যান্ত্রিকতার এই ভিড়ে মানুষকেই জয়ী হতে হবে, প্রযুক্তির দাস হয়ে নয়।

আপনার পরিবারে কি স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে? আপনার ব্যক্তিগত মতামত ও অভিজ্ঞতার কথা আমাদের কমেন্ট বক্সে জানান।