‘এপাং ওপাং ঝপাং’ আর নয়! গ্রন্থাগারে জ্ঞানচর্চার নতুন পথে বিজেপি সরকার

রাজ্যের সরকারি গ্রন্থাগারগুলি থেকে সরিয়ে ফেলা হবে বেশ কিছু ‘অপ্রয়োজনীয়’ বই। এবার এমনই কড়া অবস্থান নিলেন রাজ্যের নতুন গ্রন্থাগার মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পাঠাগারে কেবলমাত্র সেই সব বইই থাকবে, যা মানুষের জ্ঞানচর্চায় ও জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারা বিকাশে সহায়ক।

কী থাকবে আর কী থাকবে না? গ্রন্থাগার মন্ত্রী জানিয়েছেন, যেসব বই পাঠ্যপুস্তক হিসেবে শিশুদের মনের বিকাশে সহায়ক নয়, সেগুলোর জায়গা লাইব্রেরিতে নেই। মন্ত্রীর কথায়, “পাঠাগার জায়গা নষ্ট করার জায়গা নয়, এখানে জ্ঞানার্জনের উপযোগী বই থাকবে।” এই নতুন নীতি অনুযায়ী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, স্বামী বিবেকানন্দ এবং শিবাজী ও রানা প্রতাপের মতো বীর যোদ্ধাদের জীবনীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

মমতার বই ও ‘এপাং ওপাং ঝপাং’ প্রসঙ্গে: ২০২৫ সালের জুন মাসে স্কুল গ্রন্থাগারগুলিতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বই রাখার জন্য বিশেষ নির্দেশ ও অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল। সেই তালিকায় প্রায় ৯০টি বই ছিল তৃণমূল নেত্রীর লেখা। এখন নতুন মন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, সেই তালিকায় থাকা অনেক বইই আর লাইব্রেরিতে রাখা হবে না। বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা জনপ্রিয় ছড়া ‘এপাং ওপাং ঝপাং’-কে তিনি ‘অর্থহীন’ হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছেন, এ ধরনের লেখা গ্রন্থাগারে রেখে স্থান নষ্ট করা হবে না।

রাজনৈতিক তরজা: রাজ্য রাজনীতিতে ‘এপাং ওপাং ঝপাং’ শব্দবন্ধটি বহু দিন ধরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিরোধীদের একটি প্রধান অস্ত্র। এমনকি রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও বিভিন্ন সময়ে এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করে তৃণমূল নেত্রীকে কটাক্ষ করেছেন। এবার সেই ছড়াকেই পাঠাগার থেকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য: গ্রন্থাগার মন্ত্রীর এই ঘোষণার নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকার অভিযোগ তুলছে তৃণমূল শিবির। তবে সরকারি তরফে বলা হচ্ছে, গ্রন্থাগারের মানোন্নয়ন এবং পাঠকদের মধ্যে উচ্চমানের সাহিত্য পৌঁছে দেওয়াই এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য। আগামী দিনে কতগুলো বই সরকারি গ্রন্থাগার থেকে অপসারিত হয় এবং তার জায়গায় কোন কোন নতুন বই স্থান পায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।