পুজো অনুদান কি বন্ধ হতে চলেছে? দুর্গাপুজো নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

: ৪ মে-র রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—গত সরকারের ধাঁচেই কি এবারও দুর্গাপুজোর অনুদান পাবে ক্লাবগুলি? এই দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শুক্রবার নিউটাউনে এক সাংবাদিক বৈঠকে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

অনুদান নীতিতে আসছে কি বদল? মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, পুজোর অনুদান নিয়ে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে তাঁর কথায়, “যাঁদের এই সামান্য সরকারি অর্থের প্রয়োজন নেই, তাঁদের অনুদান দেওয়ারও প্রয়োজন নেই। কিন্তু যেসব পুজো কমিটি আর্থিক সংকটে ভুগবে, সরকার অবশ্যই তাদের পাশে দাঁড়াবে।” অর্থাৎ, তৃণমূলের আমলের ‘সবার জন্য অনুদান’ নীতি থেকে সরে এসে এবার নির্দিষ্ট যাচাই-বাছাইয়ের পথেই হাঁটতে চলেছে নতুন সরকার।

বিজেপির অন্দরে কী ভাবনা? বিজেপি সূত্রের খবর, আগের সরকারের মতো ক্লাবগুলিকে সরাসরি বিপুল অর্থ অনুদান দেওয়ার প্রথা বন্ধ করার বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব রীতিমতো চিন্তাভাবনা করছে। দলের একটি অংশের দাবি, পুজোয় অপচয় না করে সেই অর্থ রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করাই বেশি যুক্তিযুক্ত। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, তবে সরকারি অনুদান বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়েছে।

[Image Placeholder: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাংবাদিক সম্মেলনের ছবি]

পুজোর জাঁকজমকে কি খামতি থাকবে? অনুদান নীতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত থাকলেও, বিজেপি স্পষ্ট করেছে যে শারদোৎসবের জাঁকজমকে কোনো খামতি রাখা হবে না। বরং বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠার পর এটিই তাদের প্রথম দুর্গাপুজো, তাই উৎসবটিকে আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরতে বিশেষ পরিকল্পনায় নেমেছে রাজ্য নেতৃত্ব।

পুজোয় মোদী-শাহের চমক? সূত্রের দাবি, আসন্ন দুর্গাপুজোয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ ও রাজনাথ সিংয়ের মতো কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে কলকাতায় আনার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে রাজ্য বিজেপি। শুধু তাই নয়, অষ্টমীর অঞ্জলিতে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্যও দিল্লি ও প্রধানমন্ত্রীর দফতরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বাংলা তথা ভারতের এই শ্রেষ্ঠ উৎসবকে প্রধানমন্ত্রীকে সামনে রেখে বিশ্বমঞ্চে নতুনভাবে উপস্থাপন করাই বিজেপির মূল লক্ষ্য।