ভারতে বাড়ছে ‘গোপন’ সম্পর্কের হিড়িক! কেন সিক্রেট ডেটিং অ্যাপের নেশায় মজেছেন লাখ লাখ মানুষ?

ভারতের দ্রুত পরিবর্তনশীল সামাজিক প্রেক্ষাপটে সম্পর্কের সংজ্ঞা এখন অনেকটাই বদলে গেছে। গত কয়েক বছরে তথাকথিত মূলধারার ডেটিং অ্যাপগুলোকে ছাপিয়ে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে এমন কিছু প্ল্যাটফর্ম, যা মূলত ‘গোপনীয়তা’ এবং ‘বিবাহ-বহির্ভূত’ সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। পরিসংখ্যান বলছে, গত পাঁচ বছরে প্রায় সাড়ে চার কোটিরও বেশি ভারতীয় এই ধরনের ‘সিক্রেট’ ডেটিং অ্যাপের দুনিয়ায় পা রেখেছেন।
কেন বাড়ছে এই অ্যাপের জনপ্রিয়তা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত ক্রমবর্ধমান একাকিত্ব এবং নিজের অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণের তাগিদে মানুষ এই প্ল্যাটফর্মগুলোর দিকে ঝুঁকছে। সাধারণ ডেটিং অ্যাপ যেখানে সঙ্গী খোঁজার মাধ্যম, সেখানে এই নতুন প্রজন্মের অ্যাপগুলো তৈরি করা হয়েছে নাম গোপন রেখে শারীরিক ঘনিষ্ঠতা, বিবাহ-বহির্ভূত ডেটিং বা বহুগামিতার মতো বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে।
পরিসংখ্যান যা বলছে:
ব্যবহারকারী: শুধু গত এক বছরেই প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষ নতুন করে এই ধরনের অ্যাপে নাম নথিভুক্ত করেছেন।
নারীদের অংশগ্রহণ: ফরাসি অ্যাপ ‘গ্লিডেন’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে তাদের প্ল্যাটফর্মে নারী ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে ১৪৮ শতাংশ।
শহরের তালিকা: তালিকার শীর্ষে রয়েছে বেঙ্গালুরু (১৮%), এরপরই রয়েছে হায়দরাবাদ (১৭%), দিল্লি (১১%), মুম্বই (৯%) এবং পুনে (৭%)। শুধু প্রথম সারির শহর নয়, দ্বিতীয় সারির শহরগুলোতেও এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
AI-এর সাথে ঘনিষ্ঠতা!
আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মতে, সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য— প্রায় ৪৯ শতাংশ ভারতীয় তাদের বাস্তব সঙ্গীর তুলনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘AI Bot’-এর সাথে মানসিকভাবে বা যৌন উত্তেজনাপূর্ণ সময় কাটাতে বেশি আগ্রহী।
ব্যবসায়িক মডেল ও নৈতিকতা:
মানুষের একাকীত্ব, আবেগ এবং গোপন আকাঙ্ক্ষাকে চতুরতার সাথে কোটি কোটি টাকার ব্যবসায়িক মডেলে পরিণত করেছে এই ডেটিং অ্যাপগুলো। সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, সম্পর্কের এই নতুন ধারা একদিকে যেমন মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে পরিবার এবং দাম্পত্য জীবনে নিয়ে আসছে এক বড় সংকটের ইঙ্গিত। নৈতিকতা এবং সম্পর্কের বিশ্বাসযোগ্যতা যখন প্রযুক্তির আড়ালে ঢাকা পড়ে, তখন তা দীর্ঘমেয়াদে সমাজে কেমন প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।