এখন থেকে গৃহবধূর মাসিক আয় ৩০,০০০ টাকা! পথ দুর্ঘটনায় বড় স্বস্তি পরিবারের জন্য

সংসার সামলানো মানেই কেবল ঘরের কাজ নয়, বরং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন—এই বার্তাই আজ আরও একবার জোরালোভাবে পৌঁছে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। পথ দুর্ঘটনায় কোনো গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট এক যুগান্তকারী রায় দিয়েছে, যা দেশের লক্ষ লক্ষ পরিবারকে বড় স্বস্তি দেবে।

রায়ের মূল বিষয়গুলো এক নজরে:

মাসিক আয় ৩০,০০০ টাকা: আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এখন থেকে দুর্ঘটনায় নিহত গৃহবধূ বা ‘হোমমেকার’-দের ন্যূনতম কাল্পনিক মাসিক আয় ৩০,০০০ টাকা ধরে ক্ষতিপূরণ হিসাব করতে হবে।

‘নেশন বিল্ডার’ সম্মান: বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি এন কোটিশ্বর সিং-এর বেঞ্চ গৃহবধূদের কেবল ‘গৃহবধূ’ না বলে, আক্ষরিক অর্থেই ‘দেশ গড়ার কারিগর’ (Nation Builder) হিসেবে অভিহিত করেছেন।

অতিরিক্ত পাওনা: যদি কোনো গৃহবধূ বাইরে কোনো পেশায় নিযুক্ত থাকেন, তবে তার প্রমাণিত বেতনের সঙ্গে এই ৩০,০০০ টাকা অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ হিসেবে যোগ হবে।

বাড়বে ক্ষতিপূরণ: প্রতি তিন বছর অন্তর এই মূল অঙ্কের (৩০,০০০ টাকা) ওপর ১০ শতাংশ হারে চক্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

নতুন ক্যাটাগরি: মোটর দুর্ঘটনা ট্রাইব্যুনাল বা হাইকোর্টগুলোতে মামলার সময় এখন থেকে ‘লস অফ ডোমেস্টিক কেয়ার’ (পারিবারিক যত্নের ক্ষতি) নামে একটি আলাদা ক্যাটাগরি যুক্ত করতে হবে।

আদালতের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ:
বিচারপতিরা আক্ষেপের সুরে জানিয়েছেন, সমাজে গৃহবধূদের প্রায়শই পরিবারের অন্য উপার্জনকারী সদস্যদের ওপর ‘নির্ভরশীল’ হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বাস্তবে চিত্রটি সম্পূর্ণ বিপরীত। পরিবারের ভালোমন্দের চাবিকাঠি যখন একজন গৃহবধূর হাতে, তখন উপার্জনকারী সদস্যরা আসলে পরোক্ষভাবে তার ওপরই নির্ভরশীল। তাদের এই অবৈতনিক শ্রম সমাজের অর্থনৈতিক ও সামাজিক চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।

দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ:
২০০১ সালের পাঞ্জাবের একটি পুরনো মামলার আপিল শুনানি করতে গিয়ে আদালত উদ্বেগ প্রকাশ করে যে, ক্ষতিপূরণের মামলাগুলো বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকে। তাই এখন থেকে দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণের সমস্ত মামলা সর্বোচ্চ এক বছরের মধ্যে নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমস্ত রাজ্যের প্রধান বিচারপতিদের এই নিয়ম কঠোরভাবে তদারকি করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এই রায় কেবল একটি আইনি সিদ্ধান্ত নয়, বরং ঘরের কাজ ও গৃহবধূদের অবদানের প্রতি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এক গভীর সম্মানের বহিঃপ্রকাশ।