শত্রুর ডেরায় ত্রাস! ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে এল দেশীয় ‘পিসকিপার’ কামিকাজে ড্রোন

ভারতীয় সেনাবাহিনীর ড্রোন সক্ষমতা ও আকাশপথের সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে বড় সাফল্য এল প্রতিরক্ষা খাতে। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি জেট-ভিত্তিক কামিকাজে ড্রোন সিস্টেম ‘পিসকিপার’ (অগ্নিবেগ) আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় সেনার হাতে তুলে দিয়েছে ডিফেন্স ম্যানুফ্যাকচারিং সংস্থা এসএমপিপি (SMPP)। মাত্র ৬ মাসের রেকর্ড সময়ে ১০০টি অপারেশনাল ড্রোন এবং ৬টি প্রশিক্ষণ ড্রোন সরবরাহ করা হয়েছে।

‘অগ্নিবেগ’-এর বিশেষত্ব এক নজরে:

মারাত্মক গতি ও রেঞ্জ: এই কামিকাজে ড্রোনটি ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম। এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৪৫০ কিলোমিটার।

অব্যর্থ লক্ষ্যভেদ: পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই ড্রোনের ‘সার্কুলার এরর প্রব্যাবিলিটি’ (CEP) ৫ মিটারেরও কম। অর্থাৎ, এটি শত্রুপক্ষের রাডার স্টেশন, কমান্ড সেন্টার বা রসদ সরবরাহ কেন্দ্রে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে আঘাত করতে পারে।

জ্যামিং-প্রুফ প্রযুক্তি: আধুনিক যুদ্ধের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো ইলেকট্রনিক জ্যামিং বা স্পুফিং। কিন্তু ‘অগ্নিবেগ’ উন্নত ইলেকট্রনিক সুরক্ষা বলয় দিয়ে তৈরি, যা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নির্ভুলভাবে মিশন সম্পন্ন করতে সক্ষম।

কেন এটি গেম চেঞ্জার?
প্রথাগত কামান বা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় এই ড্রোন অনেক বেশি সাশ্রয়ী এবং এর মাধ্যমে সেনাদের ঝুঁকি ছাড়াই শত্রুর গভীরে হামলা চালানো সম্ভব। ভারতীয় প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, প্রচলিত সামরিক অস্ত্র এবং ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যবর্তী যে ব্যবধান ছিল, তা এই ড্রোনের মাধ্যমে পূরণ হতে চলেছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:
এসএমপিপি জানিয়েছে, বর্তমান অর্ডারের সফল ডেলিভারির পর তারা ইতিমধ্যে এই ড্রোনের আরও উন্নত এবং দীর্ঘপাল্লার সংস্করণের ওপর কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি, ব্যালিস্টিক সুরক্ষা, কাউন্টার-ড্রোন সিস্টেম এবং অত্যাধুনিক গোলাবারুদ তৈরির ক্ষেত্রেও ভারত এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পথে।

ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের অধীনে এমন ড্রোন সংযোজন আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ভারতীয় সেনাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেবে, তা বলাই বাহুল্য।