বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা কে? ঋতব্রত ইস্যুতে হাই কোর্টের নির্দেশে চাপে স্পিকার!

বিধানসভার বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক টানাপোড়েন এখন পৌঁছে গেল কলকাতা হাইকোর্টের চৌকাঠে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। আগামী বিধানসভা অধিবেশনের প্রাক্কালে এই জট রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আদালতে আইনজীবীর সওয়াল:
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও রাজনৈতিক প্রশ্ন তুলেছেন:

নিয়মের প্রশ্ন: কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, কোনো বিধায়ক অন্য দলে মিশে যেতে পারেন, কিন্তু তাঁরা নিজেদের পৃথক দলের প্রতিনিধি দাবি করতে পারেন না। তিনি অধ্যক্ষের ভূমিকার ওপর আলোকপাত করে বলেন, বিধানসভার অধ্যক্ষ সবাইকে সমান সুযোগ দিলেও তাঁকে সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন থাকার দাবি করা হলেও, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি কেন প্রকাশ করা হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

রাজনৈতিক বনাম পরিষদীয় দল: আইনি যুক্তিতে বলা হয়েছে, বিরোধী দলনেতা কে হবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার চূড়ান্ত ক্ষমতা রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের হাতেই থাকে। সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণের উল্লেখ করে আইনজীবী দাবি করেন, দলের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতামতই এক্ষেত্রে চূড়ান্ত হওয়ার কথা।

আদালতের অবস্থান:
বিধানসভার আসন্ন অধিবেশনকে কেন্দ্র করে আসন বণ্টন ও ঘর বরাদ্দের মতো বিষয়গুলো ঝুলে রয়েছে বলে আদালতে উল্লেখ করা হয়। এই পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে বিচারপতি কৃষ্ণ রাও বিধানসভার অধ্যক্ষকে একটি কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে বিরোধী দলনেতা নিয়োগ সংক্রান্ত যাবতীয় নথি আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। ওই দিনই এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

এখন দেখার বিষয়, বিধানসভার অধ্যক্ষের জমা দেওয়া নথির ভিত্তিতে আদালত কী রায় দেয় এবং রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা অধিবেশনে বিরোধী শিবিরের ছবিটা শেষ পর্যন্ত কেমন দাঁড়ায়।