জলের আকাল হতে পারে? ‘এল নিনো’ নিয়ে রাজ্যগুলোকে জরুরি বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বজুড়ে ক্রমশ দানা বাঁধছে এল নিনো (El Nino) আতঙ্ক। প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে তৈরি হওয়া এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রভাবে বর্ষার স্বাভাবিক ছন্দপতনের আশঙ্কায় প্রমাদ গুনছে কেন্দ্র। এমন পরিস্থিতিতে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে আগেভাগেই প্রস্তুতি সেরে রাখতে দেশের সব রাজ্যকে সতর্কবার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

নীতি আয়োগের বৈঠকে এল নিনো নিয়ে উদ্বেগ: বৃহস্পতিবার নীতি আয়োগের ১১তম গভর্নিং কাউন্সিল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় রাজ্যগুলোকে এখন থেকেই জল সংরক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দিতে হবে। বর্ষার মরসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হবে কিনা, তা নিয়ে আবহাওয়াবিদদের উদ্বেগ এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এই নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

‘AI-কে ভয় নয়, সুযোগ হিসেবে দেখুন’: শুধু আবহাওয়া নয়, আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির যুগে দেশের নতুন সামাজিক চ্যালেঞ্জগুলো নিয়েও সরব হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সাইবার প্রতারণা ও মাদকাসক্তির মতো সমস্যা মোকাবিলায় সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও পোক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি। মোদীর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-কে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, বরং এটিকে আগামী দিনের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।

বিকশিত ভারতের লক্ষ্য ও মোদীর বার্তা: বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আত্মনির্ভর ভারতের রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের যখন বড় বড় অর্থনীতি আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন ভারতের উন্নয়ন বিশ্বকে পথ দেখাচ্ছে।’ রাজ্যগুলোকে কেন্দ্রের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যটি যেন শুধু সরকারের নয়, প্রতিটি গ্রাম ও ব্লকের সংকল্প হয়ে ওঠে।

বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ দিক:

  • যুবশক্তি: দেশের ৭০ কোটি যুবক-যুবতীই ভারতের আসল সম্পদ, তাদের দক্ষ করে তোলার ওপর জোর।

  • বিনিয়োগ: ডেটা সেন্টার, প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং পরবর্তী প্রজন্মের ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান।

  • রফতানি: ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট’ (ODOP) প্রকল্পের মাধ্যমে রফতানিমুখী উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব।

  • অংশীদারিত্ব: দেশের ২৮টি রাজ্য ও ৫টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রতিনিধিদের নিয়ে সমন্বিত উন্নয়নের রূপরেখা।

প্রধানমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট করেন, ভারতের এই জনসংখ্যাগত শক্তিকেই উন্নয়নের প্রধান শক্তিতে রূপান্তরিত করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

এল নিনো (El Nino) আসলে কী? এটি একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র। যখন মধ্য ও পূর্ব-কেন্দ্রীয় নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, তখন তাকে এল নিনো বলে। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়—কোথাও তীব্র খরা, আবার কোথাও ভয়াবহ বন্যার সম্মুখীন হতে হয় দেশগুলোকে।