সবুজ শক্তিই এবার চাকরির খনি! ২০৩০ সালের মধ্যে ৪৪ লক্ষ কর্মসংস্থানের হাতছানি

পরিবেশ রক্ষার লড়াই থেকে কর্মসংস্থানের সুযোগ—মোদী সরকারের ‘সবুজ শক্তি অভিযান’ (Green Energy Mission) এখন ভারতের অর্থনীতির নতুন চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ গিগাওয়াট অ-জীবাশ্ম জ্বালানি (Non-fossil fuel) উৎপাদনের যে লক্ষ্যমাত্রা ভারত নিয়েছে, তা শুধু পরিবেশকেই বাঁচাবে না, বরং দেশের বেকার যুবকদের জন্য খুলে দেবে ৪৪ লক্ষেরও বেশি চাকরির দুয়ার। এক সাম্প্রতিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে এমনই আশাব্যঞ্জক তথ্য।

সবুজ শক্তিতেই কি ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান? সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দেশে এক বিপুল কর্মযজ্ঞ শুরু হবে। সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, গ্রিন হাইড্রোজেন এবং ব্যাটারি স্টোরেজের মতো খাতে ঘটবে এই কর্মসংস্থানের বিস্ফোরণ।

কোথায় তৈরি হবে কত চাকরি? বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান হবে সৌরশক্তি খাতে। সৌর প্যানেল তৈরি, তার ইনস্টলেশন থেকে শুরু করে রক্ষণাবেক্ষণ এবং গ্রিড ইন্টিগ্রেশনের কাজে লক্ষ লক্ষ যুবকের প্রয়োজন হবে। এছাড়াও:

  • বায়ুশক্তি: উইন্ড টারবাইন উৎপাদন ও স্থাপনায় তৈরি হবে নতুন সুযোগ।

  • ইলেকট্রিক ভেহিকল: চার্জিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং ইভি সেক্টরে বাড়বে কর্মী চাহিদা।

  • গ্রিন হাইড্রোজেন: নতুন শিল্প হিসেবে এটিও চাকরির বড় উৎস হয়ে উঠবে।

গ্রামীণ ভারতের জয়যাত্রা এই কর্মসংস্থান শুধু মেট্রো শহরগুলোতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। রাজস্থান, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু ও অন্ধ্রপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলোতে সৌর প্রকল্পগুলো গড়ে ওঠার ফলে গ্রামীণ যুবকরা তাদের বাড়ির কাছেই কাজের সুযোগ পাবেন। দেশীয় উৎপাদন বাড়ায় কমবে আমদানি, যা পরোক্ষভাবে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ মিশনকে আরও শক্তিশালী করবে।

লক্ষ্যমাত্রা পূরণে প্রস্তুতি বর্তমানে ভারতের নন-ফসিল ফুয়েল ক্ষমতা ২০০ গিগাওয়াট অতিক্রম করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ গিগাওয়াটের মাইলফলক স্পর্শ করতে হলে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৫০ গিগাওয়াট নতুন ক্ষমতা যোগ করতে হবে। এই বিপুল কর্মযজ্ঞ সামাল দিতে সরকারি ও বেসরকারি স্তরে জোর দেওয়া হচ্ছে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ওপর।

সবুজ শক্তির এই জয়যাত্রা কেবল ভারতের বিদ্যুৎ চাহিদাই মেটাবে না, বরং এটি হতে চলেছে ভারতের বেকারত্ব সমস্যার এক টেকসই সমাধান।