মহাকাশে এবার জীবন্ত ফার্মেসি! গাছ থেকেই তৈরি হবে প্রাণদায়ী ওষুধ?

দীর্ঘ মহাকাশ অভিযানে নভোচারীদের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হলো অসুস্থতা। পৃথিবী থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে থাকা মহাকাশ স্টেশনে ওষুধ সরবরাহ করা প্রায় অসম্ভব। তার ওপর মহাকাশের রেডিয়েশন ও প্রতিকূল পরিবেশে সাধারণ অনেক ওষুধ দ্রুত কার্যকারিতা হারায়। তথ্য বলছে, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে মজুত থাকা অর্ধেকেরও বেশি ওষুধ তিন বছরের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যায়। অথচ মঙ্গলের মতো গ্রহে পৌঁছাতে সময় লাগে ২০০-২৫০ দিন। এই সংকট কাটাতে এবার বড়সড় সাফল্যের দাবি করেছেন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (সান দিয়েগো) গবেষকরা।

কীভাবে তৈরি হবে ওষুধ? গবেষকরা মহাকাশের প্রতিকূল পরিবেশে গাছ থেকেই ওষুধ তৈরির এক অভিনব পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। মূলত নিকোটিয়ানা বেনথামিয়ানা এবং কালো চোখওয়ালা মটর (ব্ল্যাক-আইড পি) গাছকে কাজে লাগিয়ে বিজ্ঞানীরা ‘সিপিএমভি’ (CPMV) নামক বিশেষ যৌগ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।

গাছ থাকবে অক্ষত, মিলবে ওষুধ সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, এই পদ্ধতিতে ওষুধ সংগ্রহের জন্য গাছ কাটার প্রয়োজন নেই। বিজ্ঞানীরা এমন প্রযুক্তি তৈরি করেছেন, যার মাধ্যমে গাছের ক্ষতি না করেই তার পাতার ভেতর থেকে ওষুধ বের করে আনা সম্ভব। একই গাছ থেকে বারবার ওষুধ পাওয়া যাবে। গবেষণাগারে একটি ‘র‍্যান্ডম পজিশনিং মেশিন’-এর মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে মাইক্রোগ্র্যাভিটি বা মহাকাশের অভিকর্ষহীন পরিবেশ তৈরি করে এই পরীক্ষাটি চালানো হয়েছে।

কেন এটি বৈপ্লবিক? প্রধান গবেষক প্যাট্রিক অপডেনস্টাইনেন জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তি সফল হলে মহাকাশচারীরা তাদের প্রয়োজনে মহাকাশযানেই ওষুধের কারখানা গড়ে তুলতে পারবেন। তবে এই উদ্ভাবন শুধু মহাকাশেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। পৃথিবীর দুর্গম ও সম্পদ-সীমিত প্রত্যন্ত অঞ্চলেও স্বল্পমূল্যে জীবনদায়ী ওষুধ উৎপাদনে এটি নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

ভবিষ্যতে মানুষ যখন মঙ্গল গ্রহ বা তার বাইরের গ্রহগুলোতে পাড়ি জমাবে, তখন এই ‘জীবন্ত ফার্মেসি’ই হতে পারে নভোচারীদের সবচেয়ে বড় ভরসা।