তৃণমূলে মহাবিদ্রোহ! সায়নী-সুদীপসহ ২০ সাংসদের বিরুদ্ধে ক্ষোভের আঁচ, অস্তিত্ব সংকটে মমতা?

পশ্চিমবঙ্গে ১৫ বছরের ক্ষমতার পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছে, তা এখন চূড়ান্ত আকার ধারণ করেছে। একদিকে সিনিয়র নেতাদের পদত্যাগ, অন্যদিকে দলের ভেতরেই তৈরি হওয়া নতুন ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠীর তৎপরতা— সব মিলিয়ে চরম সংকটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস।

সাংসদদের বিদ্রোহ ও পৃথক গোষ্ঠী গঠনের জল্পনা
দলীয় সূত্রে খবর, তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে একটি বড় অংশ দিল্লির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। জানা গিয়েছে, লোকসভার ২০ জন সাংসদকে নিয়ে একটি পৃথক গোষ্ঠী গঠনের দাবিতে ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকার ওম বিরলার কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে তৃণমূলের এই বিদ্রোহী সাংসদদের বৈঠক এবং সেখানে শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। লোকসভায় তৃণমূলের মোট ২৮ জন সাংসদের মধ্যে এই ২০ জনের বিদ্রোহ মমতার জন্য এক বিরাট ধাক্কা।

হেভিওয়েটদের বিদায়ে দিশেহারা শিবির
তৃণমূলে বিদ্রোহের আগুন জ্বলেছিল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কারের পর থেকেই। এরপর সেই আগুন ছড়ায় রাজ্যসভায়।

সুখেন্দু শেখর রায়: ৮ই জুন রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লির সফরকালেই তাঁকে বড় অস্বস্তিতে ফেলেন।

সুস্মিতা দেব: ১০ই জুন সুস্মিতা দেব দলের সমস্ত পদ ও রাজ্যসভা সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করেন। দল ছাড়ার পরই তাঁর সঙ্গে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বৈঠক নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।

দলের অন্দরে অস্বস্তি ও ভবিষ্যৎ
দলের অভ্যন্তরে একসময়ের বিশ্বস্ত সহকর্মীদের বিদ্রোহ এবং বিরোধী কণ্ঠস্বর তৃণমূল সুপ্রিমোকে কার্যত একঘরে করে দিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে সাংগঠনিক ভাঙন, অন্যদিকে একের পর এক হেভিওয়েট নেতার প্রস্থান তৃণমূলের অস্তিত্বকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। দলের বিধায়ক থেকে শুরু করে সাংসদদের এই দলত্যাগের হিড়িক তৃণমূলকে দীর্ঘমেয়াদী সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে কি না, তা এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও এই সমস্ত বিদ্রোহ ও পদত্যাগ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে দিল্লি থেকে শুরু করে কলকাতা পর্যন্ত রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই আলোচনা— মমতার এই ‘কঠিন সময়’ কি শেষ পর্যন্ত দলের বড়সড় ভাঙনের দিকেই নিয়ে যাচ্ছে?