নগদ টাকা থেকে ভিলা— সরকারি আধিকারিকের বাড়ির আলমারি খুলতেই চোখ কপালে তদন্তকারীদের

তেলঙ্গানায় সরকারি প্রশাসনে বড়সড় দুর্নীতির পর্দাফাঁস করল অ্যান্টি করাপশন ব্যুরো (ACB)। রাজ্যের Roads and Buildings Department-এর Engineer-in-Chief মোহন নায়েক জরুপলাকে (Mohan Naik Jarupla) গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন শাখা। সরকারি চাকুরিজীবী হয়েও নিজের আয়ের তুলনায় অস্বাভাবিক বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগে তাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য।
১৫ জায়গায় একযোগে তল্লাশি
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে মামলা দায়ের করার পরই ACB-র একটি বিশেষ দল মোহন নায়েকের অফিস, নিজের বাড়ি এবং তার আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠদের সাথে যুক্ত মোট ১৫টি ঠিকানায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চালায়। এই অভিযানেই সামনে এসেছে সেই আকাশছোঁয়া সম্পত্তির খতিয়ান।
সম্পত্তির যে বিশাল তালিকা সামনে এসেছে:
ACB সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া সম্পত্তির সরকারি মূল্য ১৭.৯৫ কোটি টাকা হলেও, বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী এর প্রকৃত মূল্য ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে:
নগদ অর্থ: ৫৫ লক্ষ টাকা।
ব্যাঙ্ক ডিপোজিট: ১.৪৪ কোটি টাকা।
সোনা ও রুপো: প্রায় ২ কোটি টাকার আড়াই কেজি সোনা এবং ৬ কেজি রুপোর গয়না ও সামগ্রী।
গাড়ি ও গ্যাজেট: দুটি বিলাসবহুল গাড়ি এবং প্রচুর দামি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, মোবাইল ও ল্যাপটপ।
স্থাবর সম্পত্তির পাহাড়
তদন্তে জানা গেছে, মোহন নায়েকের নামে রয়েছে বিশাল সাম্রাজ্য। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
নিজামাবাদ জেলায় ১৯.৩৮ একর কৃষিজমি।
গাচিবাউলি ও কোমপল্লিতে ৭টি ফ্ল্যাট (সরকারি মূল্য ৭.৩৫ কোটি টাকা)।
মিয়াপুরে একটি ট্রিপ্লেক্স ভিলা এবং কুকাটপল্লিতে নিজস্ব বাড়ি।
নিজামপেটে নতুন বাড়ি তৈরির জন্য ১ কোটি টাকার অগ্রিম পেমেন্ট।
তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য
গ্রেফতারের পর অভিযুক্তকে হায়দরাবাদের বিশেষ ACB আদালতে তোলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশেই শুরু হয়েছে বিচারপ্রক্রিয়া। দুর্নীতি দমন শাখা জানিয়েছে, এখনও সম্পত্তির হিসাব যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের আশঙ্কা, জিজ্ঞাসাবাদের পর আরও বহু অঘোষিত সম্পত্তির হদিশ মিলতে পারে।
তেলঙ্গানার প্রশাসনিক মহলে এই ঘটনা বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিকদের এই দুর্নীতির ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে ফের বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।