মাল্টিভিটামিনের খরচ বাঁচান! শরীরকে সুপারচার্জ করতে ডায়েটে রাখুন এই সস্তা খাবার

শরীরে এনার্জি বাড়াতে বা ভিটামিনের ঘাটতি মেটাতে অনেকেই এখন কৃত্রিম সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু জানেন কি? খুব সাধারণ এবং সুলভ একটি খাবার রয়েছে, যা প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণের আধার। পুষ্টিবিদদের মতে, শরীরকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে তুলতে ‘চিকেন লিভার’ বা মুরগির লিভারের কোনো বিকল্প নেই।

কেন মুরগির লিভার সুপারফুড?
চিকেন লিভারকে পুষ্টির পাওয়ার হাউস বলা হয়। এতে রয়েছে ভিটামিন বি১২, আয়রন, ফোলেট, ভিটামিন এ, কোলিন এবং উচ্চমানের প্রোটিনের এক অনন্য সমন্বয়।

ভিটামিন বি১২-এর ভাণ্ডার: আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে সুস্থ রাখা, লোহিত রক্তকণিকা তৈরি এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ঠিক রাখতে ভিটামিন বি১২ অপরিহার্য। শরীরে এর ঘাটতি হলে ক্লান্তি, মাথা ঝিমঝিম এবং স্মৃতিশক্তি হ্রাসের মতো সমস্যা দেখা দেয়। মাত্র অল্প পরিমাণ চিকেন লিভার প্রতিদিনের ভিটামিন বি১২-এর চাহিদাকে অনায়াসেই পূরণ করতে পারে।

রক্তাল্পতা দূর করে: এতে থাকা আয়রন রক্তে অক্সিজেন পরিবহনে সাহায্য করে। মুরগির লিভারের আয়রন শরীরে খুব দ্রুত শোষিত হয়, যা অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতার সমস্যা সমাধানে দারুণ কার্যকর।

চোখ ও ত্বকের সুরক্ষা: প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ থাকায় এটি দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও ত্বকের জেল্লা বাড়াতে সাহায্য করে।

মস্তিষ্ক ও পেশির স্বাস্থ্য: এতে থাকা উচ্চমানের প্রোটিন পেশি গঠনে সহায়তা করে। অন্যদিকে, ‘কোলিন’ নামক উপাদানটি স্মৃতিশক্তি বাড়াতে এবং লিভারের সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া গর্ভবতী নারীদের জন্য প্রয়োজনীয় ‘ফোলেট’-এর সেরা উৎস হলো এই মুরগির লিভার।

সতর্কতা: মুরগির লিভার অত্যন্ত পুষ্টিকর হলেও এতে ভিটামিন এ-এর আধিক্য থাকে। তাই শরীরের উপকারের জন্য সপ্তাহে মাত্র এক থেকে দু’বার পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই যথেষ্ট। অতিরিক্ত খাওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো।

আপনার ডায়েটে অল্প পরিমাণ চিকেন লিভার নিয়মিত রাখলে তা কেবল এনার্জিই বাড়াবে না, বরং শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখতেও সাহায্য করবে। তাই শরীরকে ফিট রাখতে পুষ্টিকর খাবারের তালিকায় আজই যোগ করতে পারেন এই সুপারফুডটি।