বন্ধ নয়, এবার স্বচ্ছতা! লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও বেকার ভাতা নিয়ে বড় আপডেট দিলেন দিলীপ ঘোষ

রাজ্য সরকার পরিবর্তনের পর লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রীসহ একাধিক পুরনো প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা কাটাতে মুখ খুললেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা দিলীপ ঘোষ। মঙ্গলবার উলুবেড়িয়া ২ নম্বর ব্লকে ১০০ দিনের কাজের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট করলেন, কোনো প্রকল্পই পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না, বরং ভাতার বণ্টন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা হচ্ছে।
ভাতার বণ্টন ও অনিয়ম নিয়ে দিলীপ ঘোষের বক্তব্য
নতুন সরকারের কার্যপদ্ধতি নিয়ে দিলীপ ঘোষ দাবি করেন যে, বিগত সরকার রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে প্রকল্পগুলির অপব্যবহার করেছে। তাঁর কথায়, “আগের সরকার নিজের লোকেদের সুবিধা পাইয়ে দিত। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের নামে সাড়ে তিন লক্ষ পুরুষের অ্যাকাউন্টে অবৈধভাবে টাকা ঢুকেছে, যা নতুন সরকার মেনে নেবে না।” তিনি সাফ জানিয়েছেন, এবার থেকে একমাত্র ‘যোগ্য’ ব্যক্তিরাই সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাবেন এবং কোনো বিদেশি নাগরিক সরকারি প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন না।
প্রকল্পের ভবিষ্যৎ ও বেকার ভাতা
সরকার বদলের পর অনেক প্রকল্পের কাজ সাময়িকভাবে থমকে থাকলেও, দিলীপ ঘোষের ইঙ্গিত অনুযায়ী:
বাছাই প্রক্রিয়া: আগামী তিন মাসের মধ্যেই উপভোক্তাদের চূড়ান্ত বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
বেকার ভাতা: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের পাশাপাশি বেকার যুবকদের জন্য ৩ হাজার টাকা ভাতার পোর্টাল খুব শীঘ্রই চালু হতে চলেছে।
সময়সীমা: সরকারি সূত্রে খবর, ভাতার সঠিক উপভোক্তা চিহ্নিত করার কাজ চলছে। দ্রুত এই প্রক্রিয়া শেষ হলেই যোগ্য ব্যক্তিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছানো শুরু হবে।
বিধবা ও বার্ধক্য ভাতার কী হবে?
সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ যারা বিধবা বা বার্ধক্য ভাতার ওপর নির্ভরশীল, তাদের ভাতার ভবিষ্যৎ নিয়ে দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে সরাসরি কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকলেও, সরকারি সূত্রের দাবি, মানবিক দিক বিবেচনা করে এই প্রকল্পগুলোকে অধিকতর সুশৃঙ্খল করা হবে।
রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে দিলীপ ঘোষ বলেন, “আগামী দিনে রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা মানুষ নিজের চোখের সামনে দেখতে পাবেন।”
সরকারের এই নতুন ‘বাছাই প্রক্রিয়া’ চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় এখন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ আবেদনকারী। এখন দেখার বিষয়, আগামী তিন মাসের এই যাচাই পর্বের পর রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় কতটা পরিবর্তন আসে।