তৃণমূলে ভাঙন ঘিরে নতুন নাটক! স্পিকারের দফতরে চিঠিই জমা পড়েনি? ধোঁয়াশায় রাজনৈতিক মহল

তৃণমূলের অন্দরের অস্থিরতা নিয়ে গতকাল যে খবর রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল, তাতে আজ এল বড়সড় মোড়। গত সোমবার তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেছিলেন যে, ২০ জন সাংসদের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি চিঠি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার দফতরে জমা দেওয়া হয়েছে। সেই চিঠিতে নাকি দাবি জানানো হয়েছিল যে, তাঁরা বিজেপিতে যোগ না দিলেও এনডিএ (NDA)-এর অংশ হিসেবে কাজ করতে চান। কিন্তু সরকারি সূত্রের সাম্প্রতিকতম তথ্যে সেই দাবি কার্যত ধূলিসাৎ হয়ে গেল।

কী জানা যাচ্ছে সরকারি সূত্রে?
সরকারি নথি অনুযায়ী, স্পিকার ওম বিড়লার দফতরে এমন কোনও চিঠি জমা পড়েইনি। বরং লোকসভার রেকর্ডে এখনও চিফ-হুইপ হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নামই বহাল রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র ধোঁয়াশা।

নিজের দাবিতে অনড় কাকলি
সোমবার ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বৈঠকের পর কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেছিলেন, নিয়ম মেনেই তাঁরা চিঠি জমা দিয়েছেন। কিন্তু আজ এই নতুন তথ্যের প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, “সব কিছুর একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া আছে। ঘরোয়া মিটিংয়ে হয়ত বিষয়টি আলোচিত হয়েছিল, কিন্তু সেই চিঠি এখানে (স্পিকারের দফতরে) নেই। রেকর্ডে আমার নামই আছে।” তাঁর এই মন্তব্য এখন রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে।

বিজেপির অবস্থান ও তৃণমূলের ভাঙন
অন্যদিকে, এই গোটা ঘটনাপ্রবাহে বিজেপির এক শীর্ষ নেতা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে বাংলা থেকে তৃণমূলের কোনও নেতাকে তাঁরা দলে নিচ্ছেন না। অর্থাৎ, তৃণমূলের একটি পৃথক ব্লক গঠন করে এনডিএ-তে যাওয়ার পরিকল্পনা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মমতা-পন্থী শিবিরের দাবি ছিল, বিক্ষুব্ধ সাংসদরা প্রয়োজনীয় সংখ্যার সমর্থন জোগাড় করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এখন সরকারি সূত্রের এই তথ্য সামনে আসায়, তৃণমূলের অন্দরের এই ‘নাটক’ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।