শান্তি চুক্তির আগে ইরানের বড় চাল! অর্ধ টন ইউরেনিয়াম মজুত সুড়ঙ্গ ধ্বংস, বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড়

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক সেই মুহূর্তেই ইরানের একটি পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইরান তার কাছে থাকা প্রায় আধা টন উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সুরক্ষিত রাখতে মধ্য ইরানের ইসফাহান পারমাণবিক কেন্দ্রের সুড়ঙ্গগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে ধ্বংস করেছে এবং সেগুলোর প্রবেশপথে পুঁতে রেখেছে বিস্ফোরক।
কেন এই পদক্ষেপ?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের জেরেই এই সুরক্ষা ব্যবস্থা। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, প্রয়োজনে এই পারমাণবিক উপাদান জব্দ করতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। মে মাসে এমন একটি অভিযানের কথা ভাবা হলেও, উচ্চ ঝুঁকির কারণে তা স্থগিত করা হয়। সুড়ঙ্গগুলো ধ্বংস করে ইরান কার্যত কোনো সামরিক অভিযানের পথ রুদ্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
পরমাণু বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকদের উদ্বেগ:
তদন্তে বাধা: প্রাক্তন মার্কিন পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ স্কট রোকারের মতে, সুড়ঙ্গ ধ্বংসের ফলে এই ইউরেনিয়াম উদ্ধার করা বা এর সঠিক পরিমাণ যাচাই করা এখন কার্যত অসম্ভব। ভবিষ্যতে ইরান হয়তো দাবি করতে পারে যে, সুড়ঙ্গ ধসে পড়ায় সব ইউরেনিয়াম উদ্ধার করা সম্ভব নয়, যা পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
জটিল উদ্ধার প্রক্রিয়া: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু বহিরাগতদের জন্যই নয়, স্বয়ং ইরানের জন্যও ইউরেনিয়াম বের করা এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এর জন্য প্রয়োজন হবে ভারী খনন যন্ত্র এবং বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করার মতো জটিল প্রযুক্তি।
আলোচনার ভবিষ্যৎ কী?
বর্তমানে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ ও ধ্বংস করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ইরান জানিয়েছে, চুক্তি স্বাক্ষরের পর পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ৬০ দিন আলোচনার সুযোগ থাকবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যদি এই ইউরেনিয়াম উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হয়, তবে তা সম্পন্ন করতে অন্তত দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
শান্তি আলোচনার টেবিলে ইরানের এই নতুন ‘কৌশলগত দুর্গ’ এখন চুক্তির সফলতায় কতটা প্রভাব ফেলবে—সেটিই এখন বিশ্ব রাজনীতির বড় প্রশ্ন।