‘সবটাই সাজানো!’ কোটি টাকার তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতারির পরেও দাপট অটুট সব্যসাচীর?

রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বরাবরই ‘দাপুটে’ নেতা হিসেবে পরিচিত বিধাননগর পুরনিগমের চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্ত ফের শিরোনামে। তবে এবার আর কোনো রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, বরং সরাসরি পুলিশের জালে ধরা পড়লেন তিনি। কোটি টাকার তোলাবাজির এক চাঞ্চল্যকর মামলায় সোমবার গভীর রাতে রাজারহাটের নিজ বাসভবন থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ।
কী অভিযোগ সব্যসাচীর বিরুদ্ধে?
সূত্রের খবর, ২০১৮ সালের একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে মধুসূদন চক্রবর্তী নামে এক স্থানীয় ব্যবসায়ী সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। ব্যবসায়ীর দাবি, সব্যসাচী দত্ত তাঁর কাছ থেকে ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা তোলা চেয়েছিলেন এবং হুমকি দিয়েছিলেন। দীর্ঘ তদন্তের পর অবশেষে পুলিশ ওই অভিযোগে এফআইআর (FIR) দায়ের করে এবং সোমবার রাতে সব্যসাচীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডেকে পাঠায়। পরে বয়ানে অসঙ্গতি মেলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারির পর কী বললেন সব্যসাচী?
গ্রেফতারির পরও সব্যসাচী দত্তের কণ্ঠে পুরনো সেই পরিচিত আত্মবিশ্বাস ও দাপট দেখা গেছে। গণমাধ্যমের সামনে তিনি সাফ জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও সাজানো”। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছেন, “১ কোটি কেন, ১০০ কোটি টাকা নেওয়ার প্রমাণ দিলে প্রয়োজনে আমাকে ফাঁসি দেওয়া হোক।”
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি
উল্লেখ্য, সব্যসাচী দত্তের এই গ্রেফতারি এমন এক সময়ে ঘটল যখন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অস্থিরতা চরমে। দল বদল, একের পর এক নেতার গ্রেফতারি এবং সাংগঠনিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে সব্যসাচীর গ্রেফতারি দলকে আরও অস্বস্তিতে ফেলল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। মঙ্গলবার তাঁকে বিধাননগর আদালতে পেশ করা হলে পুলিশ তাঁকে আটদিনের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। আদালত চত্বরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভকারীদের হট্টগোল ও ডিম ছোড়ার মতো ঘটনাও প্রকাশ্যে এসেছে।
এখন দেখার বিষয়, আইনি লড়াইয়ে সব্যসাচী কতটা কী করতে পারেন এবং এই গ্রেফতারির রাজনৈতিক প্রভাব রাজ্য রাজনীতিতে কতটা পড়ে।