“৩০ লক্ষ টাকা প্রতারণা ও খুনের হুমকি”-গ্রেফতার পুরসভার কাউন্সিলার সুস্মিতা ও তাঁর স্বামী!

রাজধানী কলকাতার খিদিরপুরে আর্থিক প্রতারণা ও খুনের হুমকির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন কলকাতা পুরসভার ৭ নম্বর বরোর চেয়ারপার্সন সুস্মিতা ভট্টাচার্য চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর স্বামী সলিল চট্টোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সকালে ওয়াটগঞ্জ থানার পুলিশ এই দম্পতিকে গ্রেফতার করে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে।
কী অভিযোগ রেলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর?
অভিযোগকারী অমিত রায়, যিনি পেশায় একজন অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী এবং খিদিরপুরের হরিসভা স্ট্রিটের বাসিন্দা। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। অভিযোগ অনুযায়ী:
-
ইনস্যুরেন্সের ফাঁদ: দীর্ঘদিনের পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে অভিযুক্তরা প্রথমে দুটি ইনস্যুরেন্স পলিসি করানোর নাম করে তাঁর কাছ থেকে ১২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন।
-
টাকা হাতানোর কৌশল: পরবর্তীকালে আরও ১৩ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। এই টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
-
কাউন্সিলরের ভূমিকা: ভুক্তভোগীর দাবি, ইনস্যুরেন্সের টাকা ফেরতের বিষয়ে স্বয়ং কাউন্সিলর সুস্মিতা ভট্টাচার্য চট্টোপাধ্যায় তাঁকে ভরসা দিয়েছিলেন। পরে বিভিন্ন সময়ে নিজেদের ইনস্যুরেন্স এজেন্ট পরিচয় দিয়ে কিছু দুষ্কৃতী এসে কাউন্সিলারের নামে টাকা পাঠানোর জন্য ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করত।
মারধর ও হেনস্তা
অমিত রায়ের অভিযোগ, গত ৩ মার্চ খিদিরপুর বাজারে তাঁকে প্রকাশ্যে মারধর করা হয়। অভিযোগের আঙুল ওঠে কাউন্সিলরের স্বামী সলিল চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। শারীরিকভাবে হেনস্তা হওয়ার পর বৃদ্ধ গুরুতর আহত হন। যদিও অভিযোগ জানানোর পর দীর্ঘদিন পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ভুক্তভোগী।
তদন্তে কী উঠে আসছে?
রাজ্য পরিবর্তনের আবহে নতুন করে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করে ওয়াটগঞ্জ থানা। লালবাজার সূত্রে খবর, যদিও এই প্রতারণায় সরাসরি যোগের প্রমাণ কিছুটা অস্পষ্ট, তবুও কাউন্সিলর সুস্মিতা ভট্টাচার্য চট্টোপাধ্যায়ের ‘পরোক্ষ’ যোগ থাকার তথ্য মিলেছে। সেই কারণেই তাঁকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।
বর্তমানে ধৃত দম্পতিকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ইনস্যুরেন্স সংক্রান্ত লেনদেনের গভীরে ঢুকতে আর্থিক দুর্নীতির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। খোদ জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এই ধরনের গুরুতর অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।