সোনা কেনা এখন জলের দরে! লকারের চিন্তা ভুলে বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত খুলল NSE

সোনা মানেই একসময় ছিল লকারে বন্দি গয়না। কিন্তু বিনিয়োগের আধুনিক যুগে সোনা এখন আর কেবল গয়না নয়, বরং অন্যতম সেরা সম্পদে পরিণত হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য সুখবর নিয়ে এল ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (NSE)। এবার থেকে শেয়ার বা মিউচুয়াল ফান্ডের মতোই অত্যন্ত সহজে, ডিজিটাল উপায়ে কেনাবেচা করা যাবে সোনা।
কেন এই নতুন ব্যবস্থা?
NSE খুব শীঘ্রই তাদের ‘ইলেকট্রনিক গোল্ড রিসিটস’ (EGR) সেগমেন্ট পুরোদমে চালু করতে চলেছে। এর ফলে সোনা কেনার জন্য আর গয়নার দোকানের লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হবে না বা বাড়িতে সোনা রেখে চুরির ভয় পেতে হবে না।
নতুন ব্যবস্থার বিশেষ আকর্ষণ:
বিশুদ্ধতার গ্যারান্টি: এখানে কেবলমাত্র ৯৯৫ এবং ৯৯৯ বিশুদ্ধতার ২৪ ক্যারেট সোনা পাওয়া যাবে। ফলে ভেজালের কোনও ভয় নেই।
সাধ্যের মধ্যে বিনিয়োগ: বড় বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি সাধারণ মধ্যবিত্তের কথা মাথায় রেখে মাত্র ১০০ মিলিগ্রাম (০.১ গ্রাম) থেকেও বিনিয়োগ শুরু করা যাবে।
সুবিধাজনক সময়: সাধারণ শেয়ার বাজার বিকেলে বন্ধ হয়ে গেলেও, EGR প্ল্যাটফর্মে সকাল ৯টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কেনাবেচা চলবে।
সুরক্ষিত ভল্ট: আপনি ডিজিটাল সোনা কিনলেও, আপনার কেনা সমপরিমাণ আসল সোনা সেবি (SEBI) নিয়ন্ত্রিত সুরক্ষিত ভল্টে জমা থাকবে।
জিএসটি-র নিয়ম: আপনি যদি শুধু ট্রেডিং বা বিনিয়োগের জন্য সোনা কেনেন, তবে কোনও জিএসটি লাগবে না। শুধুমাত্র ডিজিটাল সোনা ভাঙিয়ে যখন ফিজিক্যাল ডেলিভারি বা আসল সোনা হাতে নেবেন, তখনই ৩ শতাংশ জিএসটি প্রযোজ্য হবে।
বিশেষজ্ঞদের মত
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস এবং অ্যাপগুলি ধাপে ধাপে এই সুবিধা তাদের প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এর জনপ্রিয়তা তৈরি হতে কিছুটা সময় লাগলেও, আগামী দিনে সোনা বিনিয়োগের সবচেয়ে সহজ এবং নিরাপদ মাধ্যম হতে চলেছে এই EGR ব্যবস্থা।