ধুলিয়ানে ফের দুর্নীতির পাহাড়! কাউন্সিলরের বাড়ি থেকে উদ্ধার ‘নির্মল বাংলা’র বালতি ও ত্রাণের ত্রিপল

একের পর এক দুর্নীতিতে বিদ্ধ মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান পুরসভা। এবার খোদ তৃণমূল কাউন্সিলরের ব্যক্তিগত বাড়ি থেকে উদ্ধার হলো সরকারি প্রকল্পের বিপুল পরিমাণ সামগ্রী। অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ ‘নির্মল বাংলা’ প্রকল্পের বালতি এবং গঙ্গা ভাঙন কবলিতদের জন্য রাখা ত্রাণের ত্রিপল কাউন্সিলরের বাড়িতে অবৈধভাবে মজুত করা ছিল।

ঘটনার সূত্রপাত: গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সোমবার সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ ধুলিয়ানের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাসেন আলি বাদশার একটি ভাড়াবাড়িতে হানা দেয়। গরুরহাট সংলগ্ন ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ উদ্ধার করে কয়েকশো সরকারি লোগোযুক্ত বালতি এবং বিপুল পরিমাণ ত্রাণের ত্রিপল। ‘নির্মল বাংলা’ প্রকল্পের আওতায় এই বালতিগুলি নাগরিকদের বর্জ্য পৃথকীকরণের জন্য দেওয়ার কথা ছিল। অন্যদিকে, ত্রিপলগুলি ছিল নদীভাঙন প্রবণ এলাকার দুস্থ মানুষের জন্য সংরক্ষিত।

বিস্ফোরক অভিযোগ স্থানীয়দের: ঘটনার পর এলাকায় তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি সামগ্রী গরিব মানুষের হাতে না দিয়ে কাউন্সিলর নিজের গোডাউনে মজুত করে রাখতেন এবং সম্ভবত সেগুলি কালোবাজারে বিক্রির ছক কষা হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম ও সীমা খাতুনের অভিযোগ, “পুরসভা এখন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রাপ্য ছিনিয়ে নিচ্ছে একদল চোর। আমরা অভিযুক্ত কাউন্সিলরের কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।” এই বিষয়ে অভিযুক্ত কাউন্সিলর হাসেন আলি বাদশার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

পুরসভার অন্দরে দুর্নীতির তালিকা দীর্ঘ: ধুলিয়ানে এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সাম্প্রতিক অতীতে ধুলিয়ান পুরসভার বিরুদ্ধে আবাস যোজনায় দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এর আগে পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা বর্তমান কাউন্সিলরের স্বামী মেহেবুব আলমকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এমনকি ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুষমা সরকার ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধেও টাকা ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন নাগরিকরা। একের পর এক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় ধুলিয়ান পুরবোর্ডের স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা।

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় কাউন্সিলরের যোগসাজশ কতদূর, তা তদন্তের স্বার্থে খতিয়ে দেখছে সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ।