‘দেব পাল্টায়নি!’ শুভেন্দুর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিয়ে মমতা ও রাজনীতি নিয়ে মুখ খুললেন ঘাটালের সাংসদ

দিল্লিতে তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের তালিকায় নাম থাকা নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, ঠিক তখনই সম্পূর্ণ অন্য মেজাজে ধরা দিলেন ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী (দেব)। মঙ্গলবার কোলাঘাটের বলাকা মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিয়ে দেব স্পষ্ট করলেন, তিনি ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক সৌজন্যের পথে অবিচল। একইসঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রতি সমান শ্রদ্ধাশীল থেকে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করলেন তিনি।
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান ও মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: এদিন প্রশাসনিক বৈঠক থেকে বেরিয়ে দেব ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে বলেন, “এই প্রকল্পের মাটি কাটার কাজ শুরু হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে। আমার বিশ্বাস, সেই অসমাপ্ত কাজ বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরেই শেষ হবে।” সাংসদের কথায়, বন্যা সমস্যা ঘাটালের মানুষের দীর্ঘদিনের যন্ত্রণার কারণ। তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে এই সরকারই প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন করবে।
‘দেব পাল্টায়নি’—সরাসরি উত্তর সাংসদের: দিল্লিতে বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের তালিকায় নাম থাকা এবং বিরোধী দলের শাসিত প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়া নিয়ে নানা জল্পনা ছড়িয়েছিল। এই প্রসঙ্গে দেবের সাফ জবাব, “২০১৪ সাল থেকে মানুষ আমাকে দেখছেন। আমি সারাজীবনই সৌজন্যের রাজনীতি করেছি। আজ হঠাৎ কেউ যদি বলে দেব পাল্টে গিয়েছে, তবে ভুল বলবে। আমি মানুষকে এক রাখার ও ভালোবাসার রাজনীতি করে এসেছি। যে দলেরই হোন না কেন, আমি সবসময় সম্মান দিয়ে কথা বলেছি। মঞ্চ থেকে কাউকে অপমান করা আমার রাজনীতি নয়।”
রাজনীতির ঊর্ধ্বে সৌজন্য? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যের ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর দেবের এই অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও আস্থা রাখা এবং অন্যদিকে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সরকারি কাজের প্রয়োজনে সমন্বয় বজায় রাখা—এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করে দেব বুঝিয়ে দিলেন, তিনি সংকীর্ণ রাজনীতির চেয়ে এলাকার উন্নয়নকেই অগ্রাধিকার দিতে চান।
কোলাঘাটের এই প্রশাসনিক সভায় দেবের দেরিতে পৌঁছানো এবং মূল মঞ্চে আসন গ্রহণ করার বিষয়টিও ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। তবে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দেবের স্পষ্ট বার্তা, তিনি মানুষের জন্য কাজ করতেই আগ্রহী।