বাংলা সাঁতারে বড় বিতর্ক: দল গঠনে অনিয়মের অভিযোগ, বঞ্চিত রাজ্যের উঠতি সাঁতারুরা!

বাংলার সাঁতারের জগতে ফের বড়সড় অস্থিরতা। স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যে অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব নিয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধেই এবার উঠল দল নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ। আসন্ন ৭৯তম জাতীয় সিনিয়র সাঁতার প্রতিযোগিতার জন্য বাংলা দল নির্বাচন নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। অভিযোগ, কোনো রকম রাজ্য স্তরের প্রতিযোগিতা ছাড়াই বেছে নেওয়া হয়েছে দল, যা নিয়ে সাঁতারুদের মধ্যে ক্ষোভের পারদ তুঙ্গে।

কেন এই বিতর্ক? প্রতি বছর রাজ্য সাঁতার প্রতিযোগিতার পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করেই জাতীয় স্তরের জন্য বাংলার প্রতিনিধি নির্বাচন করা হয়। এই সাফল্যের সার্টিফিকেট ও মেডেল সাঁতারুদের চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। কিন্তু এবার সেই রাজ্য মিট আয়োজন না করে, গত দু’দিন ধরে বেহালায় রেলের সুইমিং পুলে একটি ‘ট্রায়াল মিট’-এর আয়োজন করেছিল অ্যাডহক কমিটি। সেখানে ছিল না কোনো হিট বা ফাইনালের মতো প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ। এমনকি কোন মাপকাঠিতে এই সাঁতারুদের বাছাই করা হলো, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

কমিটির যুক্তি বনাম বাস্তবের ছবি অ্যাডহক কমিটির চেয়ারম্যান শৈবাল কুমার শা জানান, জাতীয় প্রতিযোগিতার মাপকাঠি অনুযায়ীই সাঁতারুদের ডাকা হয়েছিল। দ্রুত নির্বাচন সম্পন্ন করতেই এই উদ্যোগ। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, জেলা পর্যায় থেকে উঠে আসা সাঁতারুদের মূল্যায়ন কি সঠিক পদ্ধতিতে হলো? রাজ্যের একাধিক সাঁতারুর অভিযোগ, জেলা স্তরের পরিকাঠামো এমনিতেই দুর্বল, তার ওপর সঠিক সময় মাপার ব্যবস্থা না থাকলে তাদের মেধার সঠিক প্রতিফলন অসম্ভব।

অভিজ্ঞদের ব্রাত্য রাখায় ক্ষোভ স্বচ্ছতা আনতে গিয়েই কি ভুল পথে হাঁটছে নতুন কমিটি? তথ্য বলছে, বিদায়ী কমিটির অভিজ্ঞ সদস্যদের থেকে কোনো সাহায্য নেওয়া হয়নি। বরং বাইরের লোক দিয়ে এই জটিলাবস্থা সমাধানের চেষ্টা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ক্রীড়ামহল। এমনকি, এসএফআই-এর সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়েও বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

ভবিষ্যৎ কী? চেয়ারম্যান শৈবাল কুমার শা দায় এড়ানোর সুরে বলেন, “আমি বাইরের লোক, দায়িত্ব পেয়েছি পালন করছি।” কিন্তু প্রশাসনিক এই টানাপোড়েনে দিনের শেষে বলি হচ্ছেন সাঁতারুরাই। রাজ্য সাঁতার সংস্থা কি আগামী দুই মাসের মধ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ফিরবে? নাকি অস্বচ্ছতার এই বদ্ধ জলেই আটকে থাকবে বাংলার সাঁতার? সেই উত্তরই এখন খুঁজছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা।