দিল্লিতে মমতার দৌত্য: তৃণমূলের অস্তিত্ব রক্ষায় শেষ ভরসা কি কংগ্রেস?

রাজ্য ও কেন্দ্র— উভয় ক্ষেত্রেই চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। একদিকে বিধানসভায় সই জালিয়াতির ঘটনায় সিআইডি যখন কালীঘাটে তৃণমূলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে, ঠিক সেই সংকটময় মুহূর্তে নিজের দলের কৌশল ঠিক করতে নয়া দিল্লির ১০ জনপথ রোডে কংগ্রেসের সংসদীয় কমিটির চেয়ারপার্সন সনিয়া গান্ধির সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের বর্তমান টালমাটাল পরিস্থিতিতে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

তৃণমূলে ভাঙ্গন ও এনডিএ-র হাতছানি গত কয়েক দিনে মমতার গড়ে ভাঙ্গন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেছেন, দলেরই ২০ জন সাংসদ তৃণমূলে থেকেও এনডিএ সরকারকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে এ বিষয়ে চিঠিও দিয়েছেন। জানা গেছে, ওই সময় দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে গোপনে বৈঠকও করেছেন এই বিদ্রোহী সাংসদরা। এখানেই শেষ নয়, গত ৩ জুন বিধানসভায় ৫৮ জন বিধায়ক চিঠি দিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন, যা অধ্যক্ষ রথীন্দ্র নাথ বসু গ্রহণ করেছেন।

সনিয়া-মমতা বৈঠক: নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত ভোট পরবর্তী সময়ে দল ভাঙার এই মিছিলে একদিকে যখন কর্মী-সমর্থকরা কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন, ঠিক তখনই সনিয়ার বাড়িতে মমতার এই সাক্ষাৎ নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। সূত্রের খবর, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে বিজেপি-বিরোধী জোটকে শক্তিশালী করা এবং দুই দলের পরবর্তী রাজনৈতিক রণকৌশল নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে দুই নেত্রীর মধ্যে।

ইন্ডি জোট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উল্লেখ্য, গতকাল রাজধানীতে ইন্ডি জোটের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সনিয়া গান্ধির আলিঙ্গনের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তা রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জানিয়েছেন, বিজেপি-বিরোধী লড়াইকে আরও ধারালো করতে এখন থেকে প্রতি দু’মাস অন্তর বিরোধী জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আগামী বৈঠক হায়দরাবাদে হওয়ার কথা রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের অন্দরে যখন ভাঙন এবং প্রশাসনের চাপের মুখে দল কোণঠাসা, তখন কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তৃণমূল অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার শেষ চেষ্টা চালাচ্ছে কি না, এখন সেটাই দেখার। এদিকে, কলকাতায় সিআইডি তদন্তের জালে তৃণমূলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস পর্যন্ত তল্লাশি চলায় রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে।