চিংড়ি মাছের সেই আঁশটে গন্ধ আর নয়! রেস্তোরাঁ স্টাইলে পরিষ্কার করার ম্যাজিক ট্রিকস জেনে নিন

বাঙালির পাতে এক টুকরো চিংড়ি মানেই ভোজের শেষ পাতে তৃপ্তি। মালাইকারি হোক কিংবা লাউ-চিংড়ি, চিংড়ির প্রতি বাঙালির প্রেম চিরন্তন। কিন্তু অনেকেই অভিযোগ করেন, বাড়িতে রান্না করলেও সেই রেস্তোরাঁর মতো স্বাদ বা গন্ধ পাওয়া যায় না। এর মূল কারণ হলো চিংড়ি মাছ পরিষ্কার করার সঠিক পদ্ধতির অভাব। অনেক সময় ভুল পদ্ধতিতে ধোয়ার ফলে মাছের আঁশটে গন্ধ দূর হয় না, আবার রান্নার পর তা রবারের মতো শক্ত হয়ে যায়।
কীভাবে নিখুঁতভাবে পরিষ্কার করবেন এই সাধের মাছ? জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের বাতলানো কিছু সহজ কৌশল।
১. গন্ধ দূর করার সহজ উপায়:
সাধারণ জলে বারবার ধুলেও চিংড়ির নিজস্ব তীব্র গন্ধ পুরোপুরি দূর হয় না। এর জন্য সবচেয়ে কার্যকর হলো নুন ও লেবুর রস।
প্রথমে মাছ সাধারণ জলে ধুয়ে জল ঝরিয়ে নিন।
এরপর এতে সামান্য নুন ও এক চামচ পাতিলেবুর রস অথবা ভিনেগার মাখিয়ে ৫-৭ মিনিট রেখে দিন।
লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড মাছের আঁশটে গন্ধ শুষে নেয়। এরপর ঠান্ডা জলে ধুয়ে নিলেই মাছ একদম ঝরঝরে হয়ে যাবে।
২. রেস্তোরাঁ স্টাইলে পরিষ্কার করার ‘ম্যাজিক ট্রিক’:
নামী রেস্তোরাঁগুলোতে চিংড়িকে কাচের মতো স্বচ্ছ করতে একটি বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
পরিষ্কার করা চিংড়ি মাছে সামান্য ময়দা বা কর্নফ্লাওয়ার ছড়িয়ে দিন।
এবার হাত দিয়ে হালকা করে ঘষে নিন। ময়দা মাছের গায়ের পিচ্ছিল ভাব ও সূক্ষ্ম নোংরা টেনে নেয়।
এরপর ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেললে মাছ চমৎকার পরিষ্কার হয়। এই পদ্ধতিতে ধোয়া চিংড়ি ভাজার সময় কড়াইতে আটকে যায় না, যা ফ্রাইড রাইস বা চিলি চিংড়ির ক্ষেত্রে দারুণ কার্যকর।
৩. এড়িয়ে চলুন গরম জল:
অনেকেই ভুলবশত মাছ পরিষ্কার করতে গরম জল ব্যবহার করেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কাজটি একেবারেই করবেন না। গরম জল মাছের বাইরের অংশ আংশিক সেদ্ধ করে দেয়, ফলে মাছের ভেতরের রসালো ভাব (juiciness) নষ্ট হয়ে যায়। রান্না করার পর চিংড়ি রবারের মতো শক্ত ও চিবোতে কষ্টকর হয়ে ওঠে। তাই সবসময় ঠান্ডা জলেই চিংড়ি ধোয়া উচিত।
এখন থেকে এই ছোট ছোট টিপসগুলো মেনে চিংড়ি পরিষ্কার করুন, আর বাড়িতেই উপভোগ করুন রেস্তোরাঁর স্বাদের চিংড়ি রান্না!