তৃণমূলে ভাঙনের সুর! সংখ্যালঘু সাংসদদের সরাসরি ‘মোদী-প্রীতি’ নিয়ে বিস্ফোরক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

বিধানসভার পর এবার লোকসভাতেও বড়সড় ধাক্কার মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় নিয়ন্ত্রণ আলগা হওয়ার পাশাপাশি বেশিরভাগ সাংসদের এনডিএ (NDA)-তে যোগদানের ইচ্ছাপ্রকাশ রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে, বিক্ষুব্ধ সংখ্যালঘু সাংসদদের নাম করে সরাসরি আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

সংখ্যালঘু সাংসদদের নিশানা কল্যাণের:
তৃণমূলের অন্দরের অস্থিরতা যখন চরমে, ঠিক তখনই আবু তাহের, খলিলুর রহমান, ইউসুফ পাঠান ও সাজদা আহমেদের মতো সংখ্যালঘু সাংসদদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কল্যাণ। তিনি সরাসরি তাঁদের উদ্দেশে বলেন, “আবু তাহের, খলিলুর রহমান— মনে রেখো, তোমাদের নেতা কিন্তু নরেন্দ্র মোদী।” কল্যাণ তাঁদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, “আপনারা বিধানসভা এলাকায় গিয়ে সেইসব কর্মীদের মুখোমুখি হোন, যাদের ভোটে জিতে সংসদে গিয়েছেন। তাঁদের সামনে দাঁড়ানোর সাহস আছে তো? গেরুয়া শিবিরের নেতৃত্বের সঙ্গে মিটিং বন্ধ করুন।”

অভিযোগের ‘প্রমাণ’ চাইলেন কল্যাণ:
বিক্ষুব্ধ সাংসদদের একাংশ দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে দল ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই দাবির প্রেক্ষিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের চ্যালেঞ্জ, “কোথায়, কাকে অভিযোগ জানিয়েছিলেন? প্রমাণ দিন। চিঠির কপি বা ইমেইল দেখান। আমরা অস্বীকার করছি যখন, তখন প্রমাণ তো আপনাদেরই দিতে হবে।” সেই সঙ্গে মহিলা সাংসদদের নাম করে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “দলে থাকাকালীন তাঁরা কেবল দিদির শাড়ির প্রশংসা করতেই ব্যস্ত ছিলেন, কোনোদিন কোনো অভিযোগ জানাননি।”

বিজেপি-কে নিয়ে সতর্কবার্তা:
দলবদলের হিড়িকের মাঝেও বিজেপি যে সব নেতাকে আপন করে নেবে না, সে বিষয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন কল্যাণ। তাঁর কথায়, “কাদের বিরুদ্ধে নারদা বা সিন্ডিকেট দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তা বিজেপি জানে। বিজেপি কলঙ্কিতদের কখনোই দলে নেবে না।”

তারকা সাংসদদের নিয়েও কড়া মন্তব্য:
কেবল সংখ্যালঘু বা বিক্ষুব্ধরাই নন, তারকা সাংসদদের ভূমিকা নিয়েও সুর চড়িয়েছেন কল্যাণ। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “ফিল্মস্টাররা মনে করেন তাঁদের জনপ্রিয়তাই সবকিছু। কিন্তু বাস্তব হলো, কেষ্ট মণ্ডল না থাকলে শতাব্দী রায় জিততে পারতেন না।”

বিপরীত মেরুর সুর:
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণাত্মক বার্তার বিপরীতে রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়ের মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে। তিনি বলেন, “দলটাই উঠে যাবে, সাংসদ সংখ্যা বাড়ল না কমল তাতে কিছু যায় আসে না। তৃণমূল যত দ্রুত বিলুপ্ত হবে, ততই গণতন্ত্র ও বাংলার মঙ্গল।”

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, লোকসভায় দলের এমন টালমাটাল অবস্থায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কড়া অবস্থান তৃণমূলের অন্দরের ভাঙন কতটা গভীর, তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিল।