দার্জিলিং মানেই ম্যাজিক! টয় ট্রেনের টিকিটের চাহিদায় সব রেকর্ড চুরমার, জানুন কত আয় করল রেল?

বাঙালির কাছে ছুটির মানেই ‘দিপুদা’—দিঘা, পুরী আর দার্জিলিং। তবে গরমে শৈলশহর দার্জিলিংয়ের জনপ্রিয়তা যেন সব সময় এক কদম এগিয়ে। পাহাড়ের খাঁজে পাইন বন, চায়ের বাগান আর কাঞ্চনজঙ্ঘার হাতছানি—সব মিলিয়ে দার্জিলিং বরাবরই পর্যটকদের প্রথম পছন্দ। আর এই পাহাড় ভ্রমণের সেরা পাওনা হলো ঐতিহ্যবাহী ‘টয় ট্রেন’। ইউনেস্কো স্বীকৃত এই হেরিটেজ ট্রেনটি এবার আয়ের ক্ষেত্রে গড়ে ফেলল এক নতুন মাইলফলক।নতুন রেকর্ডের পথে টয় ট্রেন:দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (DHR) সূত্রে খবর, চলতি বছরের মে মাসে টিকিট বিক্রির নিরিখে গত পাঁচ বছরের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে গিয়েছে। পর্যটকদের মধ্যে টয় ট্রেন জয় রাইডের চাহিদা এতটাই তুঙ্গে ছিল যে, রেলের কোষাগারে জমা পড়েছে প্রায় ৪ কোটি টাকা। হিমালয়ান রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে ডিএইচআর-এর আয় হয়েছে ৩৯৫ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা।গত ৫ বছরের মে মাসের আয়ের তুলনামূলক চিত্র:বছরমে মাসে আয় (লক্ষ টাকায়)২০২২৩১৯.৬৪২০২৩৩৫৮.১৮২০২৪২৮৮.৫৮২০২৫৩৫৮.৬০২০২৬৩৯৫.৬০(সূত্র: দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে)জুনেও কি থাকবে আয়ের জোয়ার?দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানিয়েছেন, বর্তমানে যে হারে টিকিট বুকিং হচ্ছে, তাতে চলতি জুন মাসেও আয়ের গতি অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। রেল কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক অনুমান, জুন মাসে টয় ট্রেনের আয় ৩৭০ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।তিনি আরও বলেন, “উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে বরাবরই পর্যটকদের অভিজ্ঞতাকে আরও আরামদায়ক ও স্মরণীয় করে তুলতে সচেষ্ট। ইউনেস্কো স্বীকৃত এই ঐতিহ্যবাহী রেল পরিষেবাকে সংরক্ষণ ও আধুনিকীকরণের ওপর আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।”পাহাড়ের এই হেরিটেজ ট্রেনের প্রতি পর্যটকদের এই ক্রমবর্ধমান আগ্রহ একদিকে যেমন রেলের আয়ের পথ প্রশস্ত করছে, তেমনই উত্তরবঙ্গের পর্যটন শিল্পে নতুন প্রাণের সঞ্চার করছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।