খান স্যারকে গ্রেফতার করা যাবে না, জনপ্রিয় শিক্ষককে ‘রক্ষাকবচ’ দিল পটনা জেলা কোর্ট

কোচিং সেন্টারের বিবাদ ও গুলি চালানোর ঘটনায় অভিযুক্ত জনপ্রিয় শিক্ষক ‘খান স্যার’-কে বড়সড় স্বস্তি দিল পটনা জেলা ও দায়রা আদালত। বিচারক তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষাকবচ প্রদান করেছেন। আদালতের এই নির্দেশের ফলে পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত খান স্যারের বিরুদ্ধে কোনো ধরণের শাস্তিমূলক বা কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে পারবে না পুলিশ। অর্থাৎ, এই সময়ের মধ্যে তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না।
আদালতে কী ঘটল? শুনানি চলাকালীন খান স্যারের আইনজীবীরা আদালতকে জানান, উক্ত ঘটনায় খান স্যারর প্রত্যক্ষ কোনো ভূমিকা নেই এবং তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশ তাদের তদন্তের রিপোর্ট ও এফআইআর-এর কপি আদালতে পেশ করে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরে। উভয় পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারক এই অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ জারি করেন। একই সঙ্গে আদালত মামলার গুরুত্ব বুঝে পুলিশকে তদন্তের কেস ডায়েরি ও যাবতীয় নথিপত্র খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে।
পটনায় চাঞ্চল্যকর ঘটনা পটনায় ‘খান স্যার’র কোচিং সেন্টারে গুলি চালানোর ঘটনার পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে কাদামকৌন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। পুলিশি সূত্রে খবর, ঘটনার সময় যে দুই নিরাপত্তা রক্ষী গুলি চালিয়েছিলেন, তাঁদের ইতিমধ্যেই হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এরপর থেকেই খান স্যারকে নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে।
তদন্ত ও বর্তমান পরিস্থিতি বিতর্ক শুরু হওয়ার পর থেকেই খান স্যারের খোঁজ না মেলায় তিনি ‘ফেরার’ বলে জল্পনা ছড়ায়। পটনার এসএসপি কার্তিক শর্মা জানিয়েছিলেন, পুলিশ তাঁকে খুঁজতে পটনা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। গত ৬ জুন পটনা সিভিল কোর্টে জামিনের আবেদন করেন ‘খান স্যার’, যা ৮ জুন রেজিস্টার হয়। অবশেষে ৯ জুন আদালত তাঁকে এই সুরক্ষাকবচ প্রদান করল।
পরবর্তী শুনানির আগে আদালত পুরো তদন্ত প্রক্রিয়াটি বিশদভাবে খতিয়ে দেখবে বলে জানানো হয়েছে। আপাতত আদালতের এই নির্দেশ খান স্যারের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবেই দেখছেন তাঁর সমর্থক ও আইনি বিশেষজ্ঞরা।