PoK-তে ‘জালিয়ানওয়ালাবাগ’ ঘটাল পাক রেঞ্জাররা,বিক্ষোভকারীদের ওপর পর পর গুলি

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (POK) পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। স্থানীয় নাগরিক অধিকার সংগঠন ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’ (JAAC)-এর ওপর পাকিস্তানের নিষেধাজ্ঞা আরোপের জেরে গত কয়েক দিন ধরে রাওয়ালকোট সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে, তবে স্থানীয়দের দাবি, নিহতের সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়ে অনেক বেশি।
ঠিক কী ঘটেছে? সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাক রেঞ্জারদের গুলিতে শাহজেব হাবিব নামে এক প্রতিবাদীর মৃত্যু হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে ও শোকজ্ঞাপনে রাওয়ালকোটের কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়েছিলেন JAAC সমর্থকরা। অভিযোগ, সেখানে উপস্থিত বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারীকে ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী নির্বিচারে শক্তি প্রয়োগ করে।
সরকারি বনাম বিক্ষোভকারীদের দাবি পুঞ্চ সেক্টরের কমিশনার সরদার ওয়াহিদ খানের দাবি, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কিছু ‘দাঙ্গাবাজ’ নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলি চালায়, যার ফলে ৪ জন পুলিশ ও ১ জন পথচারী নিহত হন। পাল্টা হামলায় ৬ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, JAAC-র দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ২৭ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ২০০-এর বেশি মানুষ। প্রায় ১০০ জনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিক্ষোভের নেপথ্যে কী? দীর্ঘদিন ধরেই POK-তে পাক প্রশাসনের বিরুদ্ধে জনরোষ দানা বাঁধছিল। বিশেষ করে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৪৫ সদস্যের বিধানসভায় ১২টি সংরক্ষিত আসন সংক্রান্ত সাম্প্রতিক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পরই আন্দোলন তীব্র আকার নেয়। এই আসনগুলি এমন শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত, যারা বর্তমানে পাকিস্তানের অন্যান্য অংশে বসবাস করছেন। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই মূলত স্থানীয়দের সঙ্গে প্রশাসনের সংঘাতের সূত্রপাত।
বিশ্বজুড়ে নিন্দা POK-র এই রক্তাক্ত ঘটনা আবারও প্রমাণ করল পাক প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা। আন্তর্জাতিক মহলও এই ঘটনা নিয়ে উদ্বিগ্ন। ইসলামাবাদে অবস্থিত আমেরিকান দূতাবাস সেখানকার মার্কিন নাগরিকদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। ব্রিটেনের সংসদীয় নেতাদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে, নিজেদের শাসনের জেরে এই অমানবিক ঘটনায় বিশ্বমঞ্চে আবারও মুখ পুড়ল পাকিস্তানের।