মমতার ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ থেকে বিদ্রোহী শিবিরে ফিরহাদ! বিধানসভায় চরম নাটকীয় মোড়

রাজ্য রাজনীতিতে আজ এক ঐতিহাসিক এবং নাটকীয় মুহূর্তের সাক্ষী থাকল বিধানসভা। তৃণমূলের অন্দরে চলা বিদ্রোহের দাবানল যে কতটা গভীরে পৌঁছেছে, তা স্পষ্ট হয়ে গেল যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একদা ‘সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ’ এবং কিচেন ক্যাবিনেটের অন্যতম সদস্য ফিরহাদ হাকিম সরাসরি বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন।

বিধানসভায় ফিরহাদের প্রবেশ: সোমবার নির্ধারিত সময়ের আগেই বিধানসভায় পৌঁছান ফিরহাদ হাকিম। সরাসরি বিধানসভার লবিতে তাঁকে স্বাগত জানান বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান মুখ সন্দীপন সাহা। এরপর সসম্মানে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কক্ষে, যেখানে বিদ্রোহী বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক চলছিল। ফিরহাদ হাকিমের এই উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে কম্পন সৃষ্টি করেছে।

কেন এই বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ?

  • মমতার ‘ছায়া সঙ্গী’র ভোলবদল: দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ফিরহাদ হাকিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়া সঙ্গী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর এই বিদ্রোহী শিবিরে যোগদান তৃণমূলের অন্দরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের কফিনে শেষ পেরেক হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

  • সামান্তরাল পরিষদীয় দল: বিদ্রোহী বিধায়করা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশিত তালিকা প্রত্যাখ্যান করে যে নতুন পরিষদীয় দল গঠন করেছেন, তাতে ফিরহাদ হাকিমকে ‘মুখ্য সচেতক’ করা হয়েছিল। সেই পদ তিনি গ্রহণ করবেন কি না, তা নিয়ে বিতর্ক ছিল। কিন্তু আজ তাঁর সশরীরে বিদ্রোহী বৈঠকে উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, তিনি এখন আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়ন্ত্রণে নেই।

  • মেয়র পদত্যাগ ও জল্পনা: কয়েকদিন আগেই কলকাতা পুরনিগমের মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফা ঘিরে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। আজকের এই বৈঠক সেই জল্পনার আগুনে ঘি ঢেলে দিল।

জটিল রাজনৈতিক সমীকরণ: দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশ অমান্য করে এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভেঙে যারা নতুন পরিষদীয় দল গঠন করেছে, সেই শিবিরে ফিরহাদ হাকিমের মতো হেভিওয়েট নেতার উপস্থিতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য এক বড়সড় রাজনৈতিক বিপর্যয়। কুণাল ঘোষ, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতাদের পাশ কাটিয়ে ফিরহাদ হাকিমের এই ‘বিদ্রোহ’ শাসকদলের অন্দরে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিধানসভার আসন্ন ১৮ জুনের অধিবেশনের আগেই তৃণমূলের অন্দরে এই ভাঙন ও মেরুকরণ বাংলার রাজনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।