দিল্লিতে বড় খেলা! শতাব্দী রায়ের বাড়িতে শুভেন্দু, তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের ভিড়!

বাংলার রাজনীতিতে এখন ঠিক যেন কোনো সাসপেন্স থ্রিলার! এক দিকে লোকসভায় তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ভাঙন, অন্য দিকে দিল্লিতে তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়ের বাসভবনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ চরমে।

শতাব্দী রায়ের বাড়িতে জরুরি বৈঠক সোমবার বিকেলের এই অনানুষ্ঠানিক বৈঠকটি ঘিরে ঘাসফুল শিবিরে এখন চরম অস্বস্তি। সূত্রের খবর, এই বিশেষ ‘চা-চক্র’-এ উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের একঝাঁক বিদ্রোহী সাংসদ। বাপি হালদার, শর্মিলা সরকার, আবু তাহের, খলিলুর রহমান, জগদীশ বসুনিয়া এবং অসিত মালের মতো বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়কদের শতাব্দী রায়ের বাড়িতে সমবেত হওয়া নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। তার ওপর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতি বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

এনডিএ-র দিকে কি সাংসদেরা? গত কয়েক ঘণ্টার ঘটনাক্রম বলছে, তৃণমূলের লোকসভা সংসদীয় দল এখন কার্যত দ্বিধাবিভক্ত। প্রবীণ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে প্রায় ২০ জন সাংসদ এনডিএ-কে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শতাব্দী রায়ের বাড়িতে এই বৈঠক সেই এনডিএ-তে যোগদানের প্রক্রিয়ারই পরবর্তী ধাপ হতে পারে।

ধোঁয়াশা ঘিরে বাড়ছে জল্পনা মুখ্যমন্ত্রীর এই উপস্থিতি কি নিছক সৌজন্যমূলক, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ বদলে দেওয়ার বৃহত্তর কোনো নীল-নকশা? বৈঠক শেষে কোনো পক্ষই মুখ না খোলায় জল্পনা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের নীরবতা এবং দলের সাংসদদের একাংশের এই প্রকাশ্যে বিদ্রোহ—সব মিলিয়ে বাংলার ভবিষ্যতে নতুন কোনো রাজনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সংসদীয় রাজনীতিতে এই ফাটল রাজ্যের শাসকদলের ভিত কতটা কাঁপিয়ে দেবে, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।