নিউ মদনপুর স্টেশনে বড় বদল! কয়লার ধুলো থেকে মুক্তি পেলেন দুমকাবাসী

দুমকাবাসীর জন্য এক বড় স্বস্তির খবর নিয়ে এল পূর্ব রেলওয়ে। এতদিন ধরে দুমকা স্টেশনে ভারী মালবাহী ট্রেনের চাপ ও কয়লার গুঁড়োর কারণে যে নাভিশ্বাস উঠত নিত্যযাত্রীদের, তার স্থায়ী সমাধান করতে চলেছে রেল। নিউ মদনপুর হল্টকে এখন একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ ‘ব্লক স্টেশন’-এ রূপান্তর করা হচ্ছে।
কেন এই পরিবর্তন? বর্তমানে দুমকা স্টেশনেই সব ধরনের মালবাহী কার্যক্রম—পাথর, বালি থেকে শুরু করে কয়লা লোডিং—পরিচালিত হয়। প্রতিদিন ৩ থেকে ৪টি কয়লা বোঝাই ট্রেনের পাশাপাশি অন্যান্য পণ্যের ভার বইতে গিয়ে নাজেহাল দশা হয়েছিল স্টেশন চত্বরের। কয়লার কালো গুঁড়ো এবং ট্রাকের ভিড়ে সাধারণ মানুষের শ্বাস নেওয়া দায় হয়ে পড়েছিল। এছাড়া ভবিষ্যতে কয়লা পরিবহণের পরিমাণ দিনে ৬টি রেকের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করায় রেল কর্তৃপক্ষ এই কৌশলগত পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কী সুবিধা পাবেন যাত্রীরা?
-
কয়লার ধুলো থেকে মুক্তি: ভারী কয়লা লোডিংয়ের যাবতীয় কাজ এখন সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে নিউ মদনপুর স্টেশনে। ফলে দুমকা স্টেশন থাকবে ধুলোবালি ও দূষণমুক্ত।
-
যানজট নিরসন: কয়লা বোঝাই ভারী ট্রাকগুলো আর শহরের কেন্দ্রস্থল বা দুমকা স্টেশনের ভেতর দিয়ে ঢুকবে না। এগুলো সরাসরি নিউ মদনপুর স্টেশনের দিকে চলে যাবে, ফলে শহরের রাস্তা হবে যানজটমুক্ত।
-
পরিচ্ছন্ন পরিবেশ: জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে মালবাহী কার্যক্রম দূরে সরিয়ে নেওয়ায় নিউ মদনপুর স্টেশনের চারপাশের পরিবেশ হবে অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন ও শান্ত।
-
অব্যাহত রেল পরিষেবা: এই পরিবর্তনের ফলে জসিডি এবং ভাগলপুরগামী যাত্রীদের যাতায়াতে আর কোনো বিঘ্ন ঘটবে না।
দুমকা থেকে মাত্র ৪.২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নিউ মদনপুর হল্টের এই উন্নয়ন একদিকে যেমন পূর্ব রেলের লজিস্টিকস ক্ষমতা বাড়াবে, অন্যদিকে স্থানীয়দের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও ঝামেলামুক্ত রেল ভ্রমণের পথ প্রশস্ত করবে। সাধারণ যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে রেলের এই মানবিক ও আধুনিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।