ভারতের সন্তান জন্মের হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ এলন মাস্কের! ‘বিপজ্জনক’ পরিস্থিতির দিকে দেশ?

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হিসেবে ভারত স্বীকৃতি পেলেও, এখন দেশের সন্তান জন্মের হার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শনিবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্বখ্যাত ধনকুবের ও স্পেসএক্স-এর প্রধান এলন মাস্ক। তাঁর মতে, ভারতে প্রজনন হার এখন ‘রিপ্লেসমেন্ট রেট’-এর নিচে নেমে গিয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে চিন্তার কারণ হতে পারে।
পরিসংখ্যান কী বলছে?
একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের পরিসংখ্যান তুলে ধরে এলন মাস্ক দাবি করেছেন, বিশেষ করে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে সন্তান জন্মের হার বহু বছর আগেই বেশ নিচে নেমে গিয়েছে। ‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এর রিপোর্ট এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA)-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী:
ভারতের সামগ্রিক প্রজনন হার (TFR) বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে ১.৯-এ।
জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখার জন্য প্রজনন হার অন্তত ২.১ থাকা প্রয়োজন।
মাত্র এক দশকে এই হার ২.৩ থেকে কমে ১.৯-এ নেমে আসা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
রাজধানী দিল্লির টিএফআর (TFR) এখন মাত্র ১.২, যা ফিনল্যান্ডের মতো উন্নত দেশের হারের চেয়েও কম।
সমস্যা ঠিক কোথায়?
ভারত বর্তমানে ১৪৬ কোটিরও বেশি জনসংখ্যার দেশ। ২০২৩ সালে চীনকে টপকে ভারত বিশ্বের বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশে পরিণত হলেও, রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে কিছু গভীর সমস্যার কথা উঠে এসেছে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় উন্নতি সত্ত্বেও ভারতের অন্দরে এখনও:
১. ধনী-দরিদ্রের তীব্র বৈষম্য।
২. লিঙ্গবৈষম্য বা লিঙ্গভেদের প্রকোপ।
৩. কম বয়সে বিয়ে এবং অল্প বয়সে মা হওয়ার কারণে ২৪ বছরের কম বয়সী তরুণীদের মধ্যে প্রসবকালীন মৃত্যুর হার এখনো উদ্বেগের কারণ।
জনসংখ্যার এই ভারসাম্যহীনতা বা কমে যাওয়া হার ভবিষ্যতে ভারতের কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ও অর্থনৈতিক বিকাশের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে এখন নীতি নির্ধারক ও সমাজবিজ্ঞানীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে।