দিল্লিতে বড় রাজনৈতিক ভূমিকম্প! তৃণমূলের সংসদীয় দলে ভাঙন, বিজেপির পথে বিদ্রোহী সাংসদরা?

রাজ্য রাজনীতির পালাবদলের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার জাতীয় রাজনীতির আঙিনায় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত। একদিকে যখন দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে ব্যস্ত তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ঠিক সেই সময়েই দিল্লির রাজনৈতিক অন্দরমহলে কার্যত ‘অপারেশন লোটাস’-এর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সাংসদদের বিদ্রোহ ও ইস্তফা
সোমবার দিল্লির রাজনৈতিক মহলে অন্যতম চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়ের পদত্যাগ। নিজের ইস্তফাপত্রে তিনি বর্তমান তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে বেলাগাম দুর্নীতি, নারী নির্যাতন এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার মতো কঠোর অভিযোগ তুলেছেন। এই ইস্তফার ফলে রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ১৩ থেকে কমে ১২ হয়েছে। লোকসভার সাংসদদের মধ্যেও এই বিদ্রোহের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে গোপন বৈঠক
সূত্রের খবর, বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে আজ এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই বৈঠকে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতির খবর ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। শোনা যাচ্ছে, এই বৈঠকেই তৃণমূলের একাধিক বিক্ষুব্ধ সাংসদ উপস্থিত ছিলেন। বিদ্রোহী সাংসদদের বড় অংশই তৃণমূলের সংসদীয় দলের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে চলছেন বলে খবর। অধিকাংশ সাংসদদের ফোন এই মুহূর্তে ‘সুইচড অফ’, যা জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে।
সৌগত রায়ের স্বীকারোক্তি ও জল্পনা
এদিকে, এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায় স্বীকার করেছেন যে, তিনি গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলেন। যদিও তিনি তৃণমূলে থাকার কথাই জানিয়েছেন। এছাড়া জুন মালিয়া, অরূপ চক্রবর্তী বা কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মতো নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে, বিধানসভার পর এবার লোকসভাতেও তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় কাঠামো বড়সড় ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে আছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা কি আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন? আজকের এই ঘটনাক্রম সেই উত্তরের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ।