‘সৌজন্যতা মানেই কি দলবদল?’ ট্রোলারদের কড়া জবাব দিয়ে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি অপরাজিতা আঢ্যর

রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে ব্যক্তিগত সৌজন্যবোধ যে আলাদা, তা আবারও মনে করিয়ে দিলেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য। সাম্প্রতিক অতীতে স্বরূপ বিশ্বাস ও অরূপ বিশ্বাস সংক্রান্ত বিতর্কের আবহে অভিনেত্রীর একটি পুরনো ‘ভাইফোঁটা’র ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকে শুরু হয় লাগামহীন ট্রোলিং। রবিবার এক ভিডিও বার্তায় সেই নোংরা আক্রমণের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী।

‘কাজের লোভ’ নিয়ে বিস্ফোরক যুক্তি
অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, কাজের লোভে তিনি রাজনৈতিক নেতাদের ঘনিষ্ঠ হন। এই কটাক্ষের জবাবে অপরাজিতা সরাসরি বলেন, “যদি মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হলেই কাজ পাওয়া যেত, তবে সাংসদ শতাব্দী রায় কি প্রতিটি ছবির প্রধান নায়িকা হতেন না? সায়নী ঘোষের কি কাজের অভাব হতো?” নিজের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বায়োপিক ‘দাদা’-তে সুযোগ পাওয়ার আগে টানা ছ’মাস তাঁর হাতে কোনো কাজ ছিল না। মন্ত্রী-ঘনিষ্ঠ হলে তাঁকে এভাবে বসে থাকতে হতো না বলেই অভিনেত্রীর দাবি।

‘সৌজন্যতা’ বনাম ‘দলবদল’
তিনি স্পষ্ট জানান, কোনো মন্ত্রী ভাইফোঁটার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানালে সৌজন্যবোধ থেকে সেখানে যাওয়াটা একজন শিল্পী হিসেবে তাঁর কর্তব্য। মুখ্যমন্ত্রীর বিজয় সম্মিলনীর উদাহরণ দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সেখানে উপস্থিত প্রথিতযশা শিল্পীদের কি তবে কোনো লোভ ছিল? অপরাজিতা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, “আগামী দিনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বা তাঁর কোনো মন্ত্রী আমন্ত্রণ জানালেও আমি যাব। এটা আমার ভদ্রতা। তার মানে এই নয় যে আমি রাজনীতি করছি বা ‘পাল্টিবাজ’।”

ব্যান সংস্কৃতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ
টলিউডে অন্যায়ের প্রতিবাদ করার প্রসঙ্গ তুলতেও পিছপা হননি তিনি। অপরাজিতা স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতে যখন অনির্বাণ ভট্টাচার্য বা সুদেষ্ণা রায়ের মতো শিল্পীদের ‘ব্যান’ করার সংস্কৃতি চলছিল, তখনও তিনি তাঁদের সঙ্গে কাজ করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শিল্পীরা সব সময় চেঁচিয়ে প্রতিবাদ করেন না, অনেক সময় পরিস্থিতির বিচারে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি
সোশ্যাল মিডিয়ায় লাগামহীন আক্রমণে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত অভিনেত্রী এবার আইনি পথেই হাঁটছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই সাইবার হেনস্তার বিরুদ্ধে তিনি মুখ্যমন্ত্রী এবং নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাবেন। অপরাজিতার কথায়, “এই নোংরামি সহ্য করতে করতে আমি ক্লান্ত। আর পারছি না।”