বৃষ্টিতে বাগান পচে যাচ্ছে? বর্ষাতেও আপনার ছাদ রঙিন রাখবে এই ৭টি ফুলগাছ!

অঝোর বৃষ্টির জলে শখের গাছ পচে যাচ্ছে? অনেকেরই বাগান নিয়ে এই চিন্তা কাজ করে। কিন্তু জানেন কি, এমন কিছু গাছ আছে যাদের কাছে বর্ষা মানেই উৎসবের মরশুম? একটু বুঝেশুনে সঠিক চারা বেছে নিতে পারলে আপনার ছাদ বা বারান্দার বাগান হয়ে উঠবে এক টুকরো রঙিন ক্যানভাস।

বর্ষায় বাগানের শোভা বাড়াবে যে ফুলগুলো:

জবা (Hibiscus): বর্ষার আর্দ্র বাতাসে জবা গাছ যেন প্রাণ ফিরে পায়। লাল, গোলাপি বা হলুদ রঙের জবায় ভরে ওঠে বাগান। এই সময়ে কুঁড়ি আসার হারও থাকে তুঙ্গে। পাঁচিলের ধারে এই গাছ লাগালে মেঘলা দিনেও বাগান উজ্জ্বল দেখাবে।

বোগেনভিলিয়া বা বাগানবিলাস: বৃষ্টির জলে বোগেনভিলিয়া নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। ম্যাজেন্টা, বেগুনি, কমলা বা সাদা রঙের এই ফুলের জন্য বৃষ্টির পাশাপাশি কিছুটা রোদের প্রয়োজন হয়। জল আর রোদের সঠিক ভারসাম্য থাকলেই এই গাছে ফুল ভরে উঠবে।

কামিনী (Kamini): বৃষ্টির দিনে মিষ্টি সুবাসের জন্য কামিনী সেরা। থোকা থোকা সাদা ফুল বাগানের পাশাপাশি মনকেও শান্ত করে। গাছের গোড়ায় জল না জমলে সামান্য অম্লজাতীয় মাটিতে এই গাছ তরতর করে বাড়ে।

রঙ্গন (Ixora): ছোট ছোট ফুলের থোকা নিয়ে রঙ্গন বর্ষার অন্যতম সেরা বিকল্প। লাল, কমলা বা গোলাপি রঙের রঙ্গন গাছ বৃষ্টির দিনে দারুণ মানানসই। ভালো জল-নিকাশি ব্যবস্থা থাকলে এই গাছ ফুলে ফুলে ভরে ওঠে।

পদ্ম (Lotus): বর্ষার কথা হবে আর পদ্মের নাম আসবে না, তা কি হয়? পুকুর বা বড় চৌবাচ্চায় জল বাড়লে পদ্ম আরও সুন্দরভাবে ফোটে। বাড়িতে বড় পাত্রে অনায়াসেই পদ্ম চাষ সম্ভব।

গাঁদা (Marigold): যেকোনো পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার অদ্ভুত ক্ষমতা রয়েছে গাঁদা গাছের। তবে খেয়াল রাখবেন, গোড়ায় অতিরিক্ত জল যেন না জমে। মাঝারি বৃষ্টিতে গাঁদা সবচেয়ে ভালো থাকে।

বাগানের যত্নে জরুরি টিপস:
বাগান করা একটি দারুণ শখ, আর বর্ষাকাল সেই শখ পূরণের সেরা সময়। সব গাছের ক্ষেত্রেই সবচেয়ে জরুরি হলো ‘জল-নিকাশি ব্যবস্থা’। গাছের গোড়ায় যাতে কোনো অবস্থাতেই জল না জমে, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে। অতিরিক্ত জল শিকড় পচিয়ে দেয়, তাই টবের ড্রেনেজ হোল ঠিক আছে কি না তা আগেভাগেই দেখে নিন।

আজই নার্সারি থেকে পছন্দের চারাটি নিয়ে এসে নিজের হাতে সাজিয়ে তুলুন মন ভালো করা এক টুকরো সবুজ প্রাঙ্গণ!