‘পাশ্চাত্য প্রভাব নয়, ভারতীয় সংস্কৃতির ছোঁয়া দরকার’- নার্সদের ইউনিফর্ম নিয়ে বড় মন্তব্য কঙ্গনা রানাওয়াতের

নিশিকান্ত কামাথ পরিচালিত আসন্ন ছবি ‘ভারত ভাগ্যবিধাতা’-য় একজন নার্সের চরিত্রে দেখা যাবে কঙ্গনা রানাওয়াতকে। ২৬/১১ মুম্বই হামলার সময় কামা হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের বীরত্বগাঁথার ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে নার্সদের পেশা, সামাজিক মর্যাদা ও ইউনিফর্ম নিয়ে নিজের স্পষ্ট মতামত তুলে ধরলেন অভিনেত্রী।
নার্সদের অবদানের স্বীকৃতি
সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা বলেন, “হাসপাতালের দৈনন্দিন পরিষেবা সচল রাখতে চিকিৎসকদের পাশাপাশি নার্সদের ভূমিকা অপরিসীম। অথচ সমাজে তাঁদের কাজের সেই যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয় না।” তিনি আরও যোগ করেন, এই পেশার সঙ্গে যুক্ত নারীরা যে পরিমাণ কাজের চাপ, কম বেতন এবং হেনস্তার শিকার হন, তা সত্যিই চিন্তার বিষয়। তাঁদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো একান্ত প্রয়োজন।
ইউনিফর্ম নিয়ে কঙ্গনার ভাবনা
নার্সদের ইউনিফর্ম নিয়েও বেশ কিছু নতুন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন কঙ্গনা। তাঁর দাবি, বর্তমানে প্রচলিত ইউনিফর্ম অনেকটা পাশ্চাত্য ঐতিহ্যের প্রভাবে তৈরি, যা বিদেশি সামরিক সংস্কৃতির সাথে যুক্ত। অভিনেত্রীর কথায়, “বছরের পর বছর ধরে সেবিকাদের এক ধরনের পোশাকে থাকতে বাধ্য করা হয়। আবহওয়া বা স্থানীয় প্রয়োজনের দিকে তাকিয়ে ইউনিফর্মে কিছু পরিবর্তন আনা যেতে পারে।” ভবিষ্যতে নার্সদের পোশাকে ভারতীয় সংস্কৃতির ছোঁয়া থাকলে তা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হবে বলে মনে করেন তিনি।
পোশাকের চেয়ে সেবার মানসিকতা বড়
তবে ইউনিফর্ম নিয়ে বিতর্কের চেয়েও একজন নার্সের মানবিকতাকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন কঙ্গনা। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, “একজন নার্সের আসল পরিচয় পোশাক বা বাহ্যিক রূপে নয়, বরং তাঁর কর্তব্যনিষ্ঠা ও সেবার মানসিকতায়।” কঙ্গনার আশা, ‘ভারত ভাগ্যবিধাতা’ ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে নার্সদের প্রতি শ্রদ্ধা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে এক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।