চের্নোবিলে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা! ইউক্রেনজুড়ে তীব্র আতঙ্কে তেজস্ক্রিয়তা ছড়ানোর আশঙ্কা।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত এবার আরও বিপজ্জনক ও স্পর্শকাতর মোড় নিল। শনিবার রাত থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক আকাশপথে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে। বিশেষ করে ১৯৮৬ সালের ভয়াবহ স্মৃতিবিজড়িত চের্নোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংলগ্ন এলাকাকে নিশানা করায় বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্ক।

চের্নোবিলে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত: ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, চের্নোবিলের ‘এক্সক্লুশন জোন’ বা নিষিদ্ধ অঞ্চলের একটি জ্বালানি সংরক্ষণাগারে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) জানিয়েছে, হামলায় ওই সংরক্ষণাগারের ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দ্রুত বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হচ্ছে। তবে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, বর্তমান বিকিরণের মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে এবং তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার কোনো প্রমাণ মেলেনি।

হতাহতের তালিকা ও ড্রোন যুদ্ধ: ইউক্রেন সরকারের দাবি, এই ভয়াবহ হামলায় অন্তত ৭ জন অসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৬১ জনেরও বেশি। পালটা জবাব দিয়েছে ইউক্রেনও। সেন্ট পিটার্সবার্গসহ রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় শয়ে শয়ে ড্রোন হামলা চালিয়েছে কিইভ। যদিও রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা ইউক্রেনের প্রায় ৫০০টি ড্রোন ধ্বংস করেছে।

শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ: এই রণক্ষেত্রের আবহে যুদ্ধের সমাপ্তি চেয়ে মস্কোকে আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন জ়েলেনস্কি। কিন্তু সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে ক্রেমলিন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে মাইক হাতে প্রচারের মতো শান্তি প্রস্তাব পাঠানো ‘অভদ্রতা’। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পুতিনের এই অনড় মনোভাবের কারণে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের কোনো শান্তিপূর্ণ সমাধান আপাতত সুদূরপরাহত।